ড্যানিরাজের সঙ্গে মৌসুমীর বিতণ্ডা, এফডিসিতে উত্তেজনা|174057|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:৪৭
ড্যানিরাজের সঙ্গে মৌসুমীর বিতণ্ডা, এফডিসিতে উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ড্যানিরাজের সঙ্গে মৌসুমীর বিতণ্ডা, এফডিসিতে উত্তেজনা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম এফডিসি। এরই মধ্যে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে এফডিসি। জানা যায়, সভাপতি প্রার্থী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন অভিনেতা ড্যানিরাজ।

প্রত্যক্ষদর্শী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে ঘটনার বর্ণনায় জানান, সন্ধ্যার পর মৌসুমীর কিছু ভক্ত এসেছিলেন এফডিসিতে। তারা মৌসুমীকে শুভেচ্ছা জানাতেই এসেছিলেন। অনেকক্ষণ ধরে তারা শিল্পী সমিতিতে বসেছিলেন। লোকজনের ভিড় দেখে অভিনেতা ড্যানিরাজ তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। এমন সময় মৌসুমী ড্যানিরাজকে বলেন তিনি কেন ওদের বেরিয়ে যেতে বলছেন। ওদের বেরিয়ে যেতে বলার আপনি কে? জবাবে ড্যানিরাজও মৌসুমীকে বলেন, ‘হু আর ইউ’। এ নিয়েই দুজনের মধ্যে বিতর্ক দানা বাঁধে। পরে নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন, মিশা সওদাগর, জায়েদ খান-সহ সিনিয়র শিল্পীরা বসে সমস্যার সমাধান করেন। তিনি আরও জানান, মিটিংয়ে সবার সামনে মৌসুমীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ড্যানিরাজ।

এদিকে খবর রটেছে মৌসুমীর গায়ে হাত তুলেছেন ড্যানি। এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এফডিসির একাধিক সূত্র। তারা বলেছেন বিতর্ক হলেও হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে মৌসুমীর পক্ষ থেকে নায়ক ওমরসানী বলেন, ‘এফডিসি সবার। এটা কারও ব্যক্তিগত জায়গা না। মৌসুমী মহিলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। তারই দলের কিছু ছেলে মেয়ে এসেছিলেন মৌসুমীকে শুভেচ্ছা জানাতে। তারা ভক্ত হিসেবেই এসেছিলেন। ভক্তরা নায়িকাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। ড্যানিরাজ মৌসুমীর ছোট হয়েও সে মৌসুমীকে অপমান করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এত বড় ঘটনা ঘটানোর সাহস তারা কোত্থেকে পায়। এটার ইন্ধনদাতা কে সেটা তো আমরা জানি। নাম বলতে চাই না। ও তো এমনি ছোট ওকে আর ছোট করে লাভ কি? নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা এসব করছে।’

উল্লেখ্য, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। গত ৫ অক্টোবর প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এবার মাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল রয়েছে-মিশা জায়েদ প্যানেল। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এবার সভাপতি পদে লড়াই করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও খলনায়ক মিশা সওদাগর। সহসভাপতির দুটি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল, রুবেল ও নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিনেতা সুব্রত’র বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে একাই রয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অর্থাৎ সুব্রত জ্যাকি আলমগীর এবং ফরহাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন— অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব ও শামীম খান (চিকন আলী)।