বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলীর|174083|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলীর
শফিকুল ইসলাম, ববি

বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলীর

শহীদ মিনার, পুলিশ ফাঁড়ি, যাত্রীছাউনি, মন্দির নির্মাণসহ নানা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ আসায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীনকে তার দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুজন চন্দ্র পালকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন চৌধুরী। আর অ্যাকাউন্টস অফিসার সাজিক উদ্দীন সরকার কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার সোলায়মান খান গতকাল সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত ৩ অক্টোবর মুরশীদ আবেদীনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনটি চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে একটিতে তাকে দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।’

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান কর্র্তৃপক্ষের কাছে মুরশীদ আবেদীনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুতুড়ে বিল দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ, দাপ্তরিক কাজে বাধা ছাড়াও তাকে হুমকি ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মুরশীদ আবেদীন বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণে ৪১ লাখ টাকা, পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণে ১৯ লাখ, মন্দির নির্মাণে ৯ লাখ ৬০ হাজার, বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা স্তম্ভের ডেমো তৈরিতে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ও শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি যাত্রীছাউনি নির্মাণে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার অসংগতিপূর্ণ বিল করেছেন। তার বিলের সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। সবগুলো নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্মাণের এক সপ্তাহেই একটি যাত্রীছাউনি ভেঙে গেছে।

অভিযোগকারী আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমি লিখিত যেসব অভিযোগ দিয়েছি, শতভাগ সত্য। মুরশীদ আবেদীন বিভিন্ন বিল পাসে আমাকে অনৈতিক চাপ দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারসহ তার করা কাজগুলো খতিয়ে দেখা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতিমুক্ত থাকুক, এ জন্য আমি সাহস নিয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’