ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেল খাটেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ|174165|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:০৮
ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেল খাটেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ
অনলাইন ডেস্ক

ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেল খাটেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ

ভারতের তিহার জেলে ১০ দিন বন্দী ছিলেন সদ্য নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সময় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তিনি।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম জানায়, ১৯৮৩ সালে ছাত্র সংসদের সভাপতিকে বরখাস্ত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও করেন। এর জেরে অভিজিৎ-সহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৬ সালে এক সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন অভিজিৎ। তিনি জানান, টানা ১০ দিন তিহার জেলে তাদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালায়। গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেককেই মারধর করা হয়েছিল।

আরও বলেন, “দেশদ্রোহিতার অভিযোগে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত সেই অভিযোগ উঠে যাওয়ার ফলে আমাদের ১০ দিনের বেশি থাকতে হয়নি।”

সেই সময়ে কেন্দ্রে কংগ্রেস ছিল ক্ষমতায়। অভিজিতের কথায়, “ওরা বলত, আমরা বস। তোমরা চুপ থাকো, ভদ্রভাবে থাকো।” সরকার সেই সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইত বলে জানান এই নোবেলজয়ী।

বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য এবার অর্থনীতিতে অভিজিতের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তার স্ত্রী এসথের ডুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার।

সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার পর এই তিন গবেষকের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি।

অর্থনীতিতে নোবেল প্রদানের ৫০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী এসথের ডুফলো। ৪৬ বছর বয়সী এই নারী অর্থনীতি সবচেয়ে কমবয়সী নোবেল বিজয়ীও। আর বাঙালি হিসেবে অর্থনীতিতে দ্বিতীয় নোবেলজয়ী অভিজিৎ। দম্পতি হিসেবেও দ্বিতীয়। ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় তেজস্ক্রিয়তার ওপর গবেষণায় স্বামী পিয়ের কুরির সঙ্গে নোবেল পেয়েছিলেন তার স্ত্রী মেরি কুরি।

এসথের ও ৫৮ বছর বয়সী অভিজিৎ দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক। ৫৪ বছর বয়সী ক্রেমার হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক।

নোবেল কমিটির ঘোষণার পরে এসথের ও অভিজিৎ বলেন, “বিশ্বে ৭০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন। পাঁচ বছর বয়সের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ফি বছর মৃত্যু হয় ৫০ লাখ শিশুর। যার অন্যতম কারণ অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহানি, এমন রোগ যা চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো সম্ভব অথচ অর্থ এবং সচেতনতার অভাবে সেটা সম্ভব হয় না।”

যে সব বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া চালু হয় সেখানে অর্থনীতি ছিল না। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে অর্থনীতিকেও সেই তালিকায় যুক্ত করা হয়।

সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এই পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরের বছরেই প্রথমবারের মতো অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। তবে পুরস্কারের বিষয়টি পরিচালনা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স।