ব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে চাঙ্গা পুঁজিবাজার|174313|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
ব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে চাঙ্গা পুঁজিবাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ সংবাদেই টানা দরপতনের ধারা কেটেছে পুঁজিবাজারে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সংবাদে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৮৮ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আর এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছে ১১০ পয়েন্ট।

গত ২২ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য সোমবার সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বাইরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক ধার চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জমা দিয়েছে। এর বাইরে আইসিবির তারল্য সংকট কাটাতে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অর্থ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। আইসিবি ওই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে বলে জানা গেছে। মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আইসিবির বিনিয়োগের সংবাদের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৮৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। আর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১১০ পয়েন্ট বেড়ে ৪৮২১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এর আগে টানা সাত কার্যদিবসের দরপতনে সূচকটি ২২৬ পয়েন্ট হারায়।

গতকাল সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, আইসিবি, বিএটি বাংলাদেশ, অলিম্পিক, শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানি, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বিবিএস কেব্লস, কেপিসিএল ও ইফাদ অটোস।

এদিকে সূচকে উল্লম্ফন হলেও লেনদেনে ততটা প্রভাব দেখা যায়নি। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন করেছে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

গতকাল এ ব্রোকারেজ হাউজটি ৩৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার লেনদেন করেছে, যার মধ্যে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে শেয়ার ক্রয়ে প্রথম অবস্থানে ছিল সিটি ব্যাংকের সিটি ব্রোকারেজ হাউজ। গতকাল এ ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ১৭ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রি ছিল ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ফলে সিটি ব্রোকারেজের নিট ক্রয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এছাড়া আইসিবি সিকিউরিটিজের নিট ক্রয় ছিল ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর বাইরে ইবিএল সিকিউরিটিজ, এমটিবি সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণের শেয়ার ক্রয় করেছে। বিপরীতে লেনদেনে নিয়মিত শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকা লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ ও আইডিএলসি সিকিউরিটিজ শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বিক্রি বেশি করেছে।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ৩১১টির, কমেছে ২৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির। খাতওয়ারি হিসেবে গতকাল সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে কাগজ খাতের। এ খাতটির তিন কোম্পানির বাজার মূলধন গড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে সিরামিক খাতের বাজার মূলধন।

এর বাইরে প্রকৌশল, সেবা ও নির্মাণ, বস্ত্র, টেলিযোগাযোগ, সাধারণ বীমা, সিমেন্ট, এনবিএফআই, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ ও ট্যানারি খাতের শেয়ার দর ৩ থেকে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খাতওয়ারি হিসেবে সূচকে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাংক খাতের শেয়ার দর বেড়েছে ১ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো বেঙ্গল উইন্সডোর, মুন্নু সিরামিকস, দেশ গার্মেন্টস, ফরচুন সুজ, বসুন্ধরা পেপার মিলস, এস্কয়ার নিটিং, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, বিবিএস কেব্লস, শাহজীবাজার পাওয়ার ও মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো শ্যামপুর সুগার, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, তুংহাই ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, জিলবাংলা সুগার মিলস, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, ঢাকা ডাইং ও এমএল ডাইং।