পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারির ব্যবসা চলবে না: চট্টগ্রামের ডিসি|174642|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:০৯
পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারির ব্যবসা চলবে না: চট্টগ্রামের ডিসি
চট্টগ্রাম ব্যুরো

পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারির ব্যবসা চলবে না: চট্টগ্রামের ডিসি

পেঁয়াজ নিয়ে অদৃশ্যভাবে ও কালোবাজারির ব্যবসা চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন।

তিনি বলেন, আমদানিকারক হতে কেনা পেঁয়াজের রশিদ থাকতে হবে কমিশন এজেন্টদের। রশিদ নেই এ রকম কোনো অজুহাত চলবে না। আমদানিকারকের ঠিকানাসহ সকল তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে পেঁয়াজের পাইকারী ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের। আমদানিকৃত পেঁয়াজের রশিদ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হলে আমরা কঠোর অ্যাকশন নিতে বাধ্য হব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও পেঁয়াজের আড়তদারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটা কালোবাজারি করার সুযোগ নেই। রশিদ প্রদর্শন করবেন, যাতে আমদানিকারকের সকল ঠিকানা থাকবে, আমরা ফোন করে কথা বলব তাদের সাথে। অতি মুনাফার জন্য জনগণকে জিম্মি করা চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন তখনই হস্তক্ষেপ করে, যখন মানুষ দাম নিয়ে নাভিশ্বাস উঠে। অতি মুনাফা লোভ থেকে সরে আসতে হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মতবিনিময় সভায় অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ৪২ টাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখনও ৭০ টাকায় বিক্রি করছে।

পাহাড়তলী বাজারে বৃহস্পতিবার সকালেও এই দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে তার প্রমাণ আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এসব পেঁয়াজ মিয়ানমার হতে আমদানি করা। আর মিয়ানমারের যেসব পেঁয়াজ পচে গেছে বলছে তার পরিমাণ ৫-১০ ভাগ।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ সভায় বলেন, যখন দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ে, তখন ভারতীয় পেঁয়াজের ও উৎপাদন বেশি থাকে, আমদানির সমস্যা হয় না। আবার দেশে পেঁয়াজের সংকট হলেই ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কমে যায়। দেশের পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে হবে তাহলে আর কারসাজি করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়াতে হবে, এখন যা অবস্থা তাতে আরও দু’মাস পেঁয়াজের এই অস্থিরতা থাকবে।

দিনের বেলায় পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশে অনুমতি বিবেচনা করার জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, দিনে-রাতে সকল পেঁয়াজের ট্রাক নগরীতে যেন করতে পারে সেজন্য  সিএমপি, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের সকল গাড়ি ঢুকবে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পেঁয়াজ যাতে দ্রুত খালাস করা হয় সেজন্য কাস্টমসকেও জানানো হবে।

কমিশন এজেন্টদের সঠিকভাবে ব্যবসা করতে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসন আপনাদের প্রতিপক্ষ হবে না। আপনারা আপনাদের লাভ করেন ক্ষতি পুষিয়ে কিন্তু অধিক দামে লোভ করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করলে কাউকে ছাড় দিব না। আমাদের মনিটরিং থাকবে।

ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। প্রশাসন অভিযানে গেলে দাম কমছে, অভিযান না হলে আবারও দাম বাড়ছে। সার্বক্ষণিক বাজার তদারকি করলেই পেঁয়াজের দাম অস্থিরতার সুযোগ পাবে না বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় পাইকারি-খুচরা সকল দোকানেই মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্যের আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।