ভারতীয় জেলে আটকের জেরে বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি|174754|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩৭
ভারতীয় জেলে আটকের জেরে বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ভারতীয় জেলে আটকের জেরে বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি

রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার করতে এসে এক ভারতীয় জেলে আটক হওয়ার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চারঘাট উপজেলা সদরের বালুঘাট এলাকায় পদ্মা ও এর শাখা বড়াল নদের মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।

চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রজনন মৌসুমের জন্য এখন নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি সদস্যদের নিয়ে নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পদ্মা-বড়ালের মোহনায় বাংলাদেশের সীমানার ভেতর একটি নৌকায় তিনজন ভারতীয় জেলে মাছ শিকার করছিলেন। তাদের আটক করতে গেলে দুজন পালিয়ে যান। প্রণব মণ্ডল নামে একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পালিয়ে যাওয়া জেলেরা বিষয়টি সীমান্তে গিয়ে জানালে বিএসএফ সদস্যরা এসেই গালাগালি শুরু করেন। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিকেলে চারঘাট বড়ালের মোহনার তীরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ ঘটনায় এক বিএসএফ সদস্য নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ে রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিজিবি ১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ পিএসসি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চারঘাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিওপি থেকে আনুমানিক ১ কিমি পশ্চিম দিকে এবং সীমান্ত পিলার ৭৫/৩-এস থেকে ৫০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চারঘাট থানাধীন শাহরিয়ার খাল নামক স্থানে (জিআর ৭২৮৮৫৮ মানচিত্র ৭৮ডি/১১) মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা হচ্ছিল।

মাছ ধরার সময় তিনজন জেলেকে আটক করার চেষ্টা করলে দুজন পালিয়ে যায় এবং একজনকে জালসহ আটক করে নদীর এপারে নিয়ে আসা হয়। তারা ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ১১৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাগমারী ক্যাম্প থেকে চার সদস্যের একটি টহল দল স্পিডবোটযোগে অনুমতি ছাড়া শূন্য লাইন অতিক্রম করে অবৈধভাবে ৬০০-৬৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নদীর এপারে বিজিবি টহল দলের কাছে আসে এবং আটক ভারতীয় নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে।

বিজিবি টহল দল আটক ভারতীয় নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায়। কিন্তু তারা ভারতীয় নাগরিককে বিজিবির কাছ থেকে নিয়ে মারধর করে এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা বিজিবির ওপর আনুমানিক ৬/৭ রাউন্ড গুলি চালায়। আত্মরক্ষার জন্য বিজিবি টহল দল পাল্টা ফাঁকা গুলি করলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করতে করতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যায়।

আটক ভারতীয় নাগরিক প্রণব মণ্ডলের বাবার নাম বসন্ত মণ্ডল। গ্রাম ছিড়াচর, থানা জলঙ্গী, জেলা মুর্শিদাবাদ। টহল দল ভারতীয় জেলের কাছ থেকে ৪ কেজি কারেন্ট জাল উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে অধিনায়ক রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এবং কমান্ড্যান্ট ১১৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে সীমান্ত পিলার ৭৫/৩-এস থেকে আনুমানিক ১ কিমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পদ্মা নদীর চর শাহরিয়ার বাঁধ নামক স্থানে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়।

বৈঠকে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দাবি করেন, তাদের একজন সদস্য নিহত এবং একজন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে একমত হয়। এছাড়া এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই পতাকা বৈঠক করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে শািন্তপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠক শেষ হয়।