বালিশকাণ্ডের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের তদন্ত কমিটি|174759|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪৬
বালিশকাণ্ডের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের তদন্ত কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বালিশকাণ্ডের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের তদন্ত কমিটি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর আসবাবপত্র ক্রয় ও তা ভবনে তোলার অস্বাভাবিক ব্যয়সংক্রান্ত দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। দুদকের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে দেশ রূপান্তরে ‘কেনা তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে এই প্রকল্পের দুর্নীতিবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

ভবনে একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট উপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন উপরে ওঠাতে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকার খরচ। বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে; তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। প্রতিটি ওয়ারড্রোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ।

এ রকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।

এর পরপরই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে একটি কমিটির তদন্তেই ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। উচ্চ আদালতে জমা দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ প্রকৌশলীকে দায়ী করে শািস্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আনার জন্য দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদও জানান।