ঘনবসতি এলাকার মোবাইল টাওয়ার অপসারণের নির্দেশনা|174811|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ঘনবসতি এলাকার মোবাইল টাওয়ার অপসারণের নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘনবসতি এলাকার মোবাইল টাওয়ার অপসারণের নির্দেশনা

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ সব স্পর্শকাতর জায়গা থেকে মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার অপসারণ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এ সংক্রান্ত জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ২৫ এপ্রিল দেওয়া রায়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা বলতে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসাকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর বিকিরণ (তেজস্ক্রিয়তা) নিয়ে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান

রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রিটের শুনানি নিয়ে মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ কেন নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

আদালতের আদেশে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কয়েকটি টাওয়ার পরিদর্শন করে তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এছাড়া মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত তেজস্ক্রিয়তা খুবই উচ্চমাত্রার এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, এ মামলার শুনানিতে এ সংক্রান্ত ভারতের দুটি রায় আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে বলেছিলাম আমাদের দেশের টাওয়ারের রেডিয়েশনে যে মাত্রা রয়েছে তা ১০ ভাগের একভাগে কমিয়ে আনতে হবে। এরই আলোকে হাইকোর্ট ১১ দফা নির্দেশনা দেয়।

তিনি আরও জানান, আদালত এ বিষয়ে সমীক্ষার ভিত্তিতে চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে এবং সমীক্ষার ভিত্তিতে ঘনবসতিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকার মোবাইল ফোন টাওয়ার সরানো প্রশ্নে আদেশ দেবে।

হাইকোর্টের ১১টি নির্দেশনা : ১. মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১ থেকে ১০ ভাগ করা; ২. মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার, খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রতœতাত্তি¡ক এলাকাসহ ইত্যাদি স্থানে না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণ; ৩. বিকিরণের মাত্রা যেন বেশি না হয় তার ব্যাপারে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ; ৪. টাওয়ার বসাতে জমি অধিগ্রহণে কোনো বাধা আছে কি না বা বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ; ৫. টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা বিটিআরসি এবং লাইসেন্স গ্রহণকারী দুজনকেই স্বাধীনভাবে আইটিইউ এবং আইইসির মান অনুসারে পরিমাপ করা; ৬. কোনো টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা বেশি হলে তা অপসারণ করে নতুন টাওয়ার বসানো; ৭. টাওয়ার ভেরিফিকেশন মনিটর পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিটিআরসির দায়-দায়িত্ব হবে বাধ্যতামূলক; ৮. বিটিআরসি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠন করবে, ৯. বিটিআরসি অন্যদের নিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করবে এবং লাইসেন্সিকে ৬ মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে; ১০. মোবাইল ফোনে দৃশ্যমানভাবে এসএআর মান লিখতে হবে এবং ১১. সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সি প্রতিটি রিপোর্ট/রেকর্ড ৫ বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে আদালতের আদেশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও গবেষণা করে প্রতিবেদন দিতে হবে।