কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হলেন ফাইয়াজ|174816|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হলেন ফাইয়াজ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হলেন ফাইয়াজ

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে পিটিয়ে হত্যার শিকার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ঢাকা কলেজ ছেড়ে ভর্তি হলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বাবা বরকতউল্লাহ ছেলের ভর্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কুষ্টিয়া

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গেলে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ফাইয়াজকে ভর্তি করে নেয়। ছেলে অসুস্থ থাকায় তিনি কাগজপত্র নিয়ে কলেজে যান বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বরকতউল্লাহ।

ফাইয়াজের ভর্তি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী মনজুর কাদির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফাইয়াজের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভর্তি সংক্রান্ত সব দায়িত্ব কলেজ কর্র্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। ফাইয়াজের বাবা কলেজে এসে ঢাকা কলেজের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিলে তাৎক্ষণিক তাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। আমরা ফাইয়াজের পরিবারকেও নিরাপত্তা শঙ্কামুক্ত হওয়ার আহŸান জানিয়েছি।’

অন্যদিকে ছেলের ভর্তির আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তা ও দ্রæততার সঙ্গে করায় কলেজ কর্র্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বরকতউল্লাহ বলেন, ‘দেখুন, কেইবা পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনভর অজানা শঙ্কায় দিন কাটাতে চায়? এখানে ভর্তি করে ফাইয়াজ পরিবারের সান্নিধ্যে থেকে পড়ালেখা করুক, এটা ওর মায়েরও চাওয়া। এছাড়া ফাইয়াজকে যখন ঢাকা কলেজে ভর্তি করি তখন বড় ভাই ফাহাদ (আবরার ফাহাদ) নিজের কাছে রেখে ওকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। এখন সে নাই, সে কারণে ফাইয়াজও একা ঢাকা থাকতে ইচ্ছুক নয়। তাছাড়া ওর মার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও খুব খারাপ। বড্ড বেশি ভেঙে পড়েছে। সেই সঙ্গে এক অজানা শঙ্কা তো আছেই। সে কারণে সব বিষয় চিন্তা করেই ফাইয়াজকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসলাম। একদিকে শঙ্কামুক্ত থাকতে চাই এবং আমাদের ছেলে আমাদের কাছেই থাকে সেজন্যই ওকে এখানে ভর্তি করালাম। এছাড়া ওর লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার তো আর কেউ নেই, সেজন্য আমরাই এখন ওর পড়ালেখার খেয়াল রাখতে পারব।’

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। ভাইয়ের এমন করুণ মৃত্যুর পর ফাইয়াজ আর ঢাকায় পড়াশোনা না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া ফাইয়াজের পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তাকে আর ঢাকায় রেখে পড়াতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৫ অক্টোবর তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই বিশেষ ব্যবস্থায় কলেজ কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়।