হেরেও জয়ী জনসন|175348|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
হেরেও জয়ী জনসন
ইইউকে স্বাক্ষরহীন চিঠি
প্রতিদিন ডেস্ক

হেরেও জয়ী জনসন

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তা আবারও প্রমাণ হলো ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বশেষ জটিলতায়। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার পর থেকেই বরিস জনসন অক্টোবরের ৩১ তারিখই ব্রেক্সিট করার পক্ষে কট্টর অবস্থান নিয়ে আসছেন। প্রয়োজনে মরে যাব তবু আর্টিকেল ৫০-এর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরাবর ব্রেক্সিট বিলম্বের অনুরোধ করব না এমন বক্তব্য জনসনের।

কিন্তু গত শনিবার হাউজ অব কমন্সে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে জনসনের খসড়া ব্রেক্সিট পরিকল্পনা পাস না হলে, গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরবার স্বাক্ষরহীন এক চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই চিঠিতে ব্রেক্সিট বিলম্বের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ব্রেক্সিটের পক্ষে কট্টর অবস্থান নিয়ে জনসন অন্তত একটা বিষয় জনমনে গেঁথে দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, সবকিছুর দায় ‘বিরোধী আইন প্রণেতাদের’। আর এ আইন প্রণেতাদের কারণেই বাধ্যবাধকতার জায়গা থেকে ইইউকে তিনি চিঠি দিয়েছেন, বিষয়টি আপাতত এমন দাঁড়িয়েছে। পার্লামেন্টের জনসনের বিরোধীরা আগেই ‘বেন অ্যাক্ট’ নামের একটি আইন পাস করেন। ওই আইন মোতাবেক, ইইউর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলে বিচ্ছেদ বিলম্বে নতুন করে সময় চাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সিএনএন জানায়, যুক্তরাজ্য মূলত তিনটি চিঠি পাঠিয়েছে ইইউ বরাবর। একটি চিঠি পাঠিয়েছেন জনসনের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। ওই চিঠিতে ইইউকে আশ্বস্ত করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী আইনের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। দ্বিতীয় স্বাক্ষরহীন চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী নিজে। আর তৃতীয় ব্যক্তিগত চিঠিটি জনসন নিজে পাঠিয়েছেন ইইউ নেতাদের কাছে। ওই চিঠিতে জনসন জানান, তিনি এখনো ৩১ অক্টোবরে ব্রেক্সিট করার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই জনসন বেশ কয়েকবার বলেছেন, ব্রেক্সিট বিলম্ব যুক্তরাজ্য ও ইইউর স্বার্থ বিঘিœত করবে।

ভোটে হারার পর জনসন বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমি আর বিলম্ব চাই না। ইউরোপিয়ান নেতারাও আর বিলম্ব চাইছেন না, এটাও তারা পরিষ্কার করেছেন। এটা আমার জন্য আফসোসের যে, আজ হাউজ আরও বিলম্বের পক্ষে ভোট দিয়েছে।’

ব্রেক্সিট বিলম্বে নতুন করে তিন মাস সময় দেওয়া হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখন ইইউভুক্ত দেশগুলোর। এই সিদ্ধান্ত নিতে ইইউর বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে স্বাভাবিকভাবেই। এমনকি এ সিদ্ধান্তের জন্য ইইউ যে সম্মেলন ডাকবে তা বলাইবাহুল্য। আর এ সময়কেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন জনসন। প্রতিদিন জনসন তার ব্রেক্সিট চুক্তি পরিকল্পনাকে পার্লামেন্টে পাস করাতে চেষ্টা করবেন।

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতির বাইরে অবস্থান নিয়েছে দেশটির বহু জনগণ। গত শনিবার যখন প্রথা ভেঙে পার্লামেন্টে অধিবেশন হচ্ছিল ভোটাভুটির প্রশ্নে, তখন ১০ হাজারের বেশি মানুষ পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করছিল দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে। সরকার যদি কোনোভাবে দ্বিতীয় গণভোটের দিকে যায়, তবে সেই রায় কেমন হবে তা এখনই প্রায় বলে দেওয়া যায়। কারণ বেশকিছু জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্রিটিশই এখন সব জটিলতা এড়িয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেই থেকে যেতে চাইছে।