বিয়েতেও সেন্সরশিপ|175350|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
বিয়েতেও সেন্সরশিপ
প্রতিদিন ডেস্ক

বিয়েতেও সেন্সরশিপ

আফ্রিকার সবচেয়ে দমনমূলক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরিত্রিয়া। দেশটির জনগণের মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির সুযোগটুকুও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে কঠোরভাবে। ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই ইরিত্রিয়া এক পার্টির শাসনে চলছে।

প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফ্রিকি দেশের সব বিরোধী দল ও ব্যক্তিগত মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছেন। সরকারের সমালোচকদের পরিণতি হয় কারাগারে। সম্প্রতি ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট আবি আহমেদ। এরপরই বিবিসির একটি দল ইরিত্রিয়া যান বাস্তবিক অবস্থার সন্ধানে।

ইরিত্রিয়ার একমাত্র টেলিকম সার্ভিসের নামে ইরিটেল। রাষ্ট্রায়ত্ত এ টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সিমকার্ড পাওয়া আর স্বর্ণ পাওয়া সমান কথা দেশটির জনগণের কাছে। সিমকার্ডের জন্য স্থানীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। সিমকার্ড পেলেও তা দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। ইন্টারনেট ব্যবহারে দেশটির জনগণের একমাত্র ভরসা ওয়াইফাই। কিন্তু এর গতি এতটাই দুর্বল যে, দেশটির এক শতাংশ মানুষও পুরোপুরি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন। সিম পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে স্থানীয়রা এখনো পাবলিক পে ফোন ব্যবহার করেন।

দেশটিতে ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার ক্ষেত্রেও আছে বিধিনিষেধ। যত অর্থের মালিকই হোক না কেন, মাসে পাঁচ হাজার নাকফার (স্থানীয় মুদ্রা) বেশি কেউ তুলতে পারে না ব্যাংক থেকে। জনগণকে চাহিদা অনুসারে নাকফা তুলতে দিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাবে এই ভয় থেকে সরকার এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে বলে মনে করেন অনেকে।

ইরিত্রিয়ায় বিয়ের জন্য বড় ধরনের আয়োজন করতে পাঁচ হাজার নাকফার বেশি লাগে। বিয়ের আগে স্থানীয় সরকারকে বিয়ের খরচ সম্পর্কে জানাতে হয়। স্থানীয় সরকার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষকে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার নাকফার বেশি অর্থ তুলতে দিতে নির্দেশ দেয়। গোটা দেশে কোনো এটিএম মেশিন নেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইরি-টিভি একমাত্র টেলিভিশন স্টেশন ইরিত্রিয়ার। দ্য কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) মতে, বিশ্বের সবচেয়ে সেন্সরড দেশ ইরিত্রিয়া। তবে স্যাটেলাইট ডিশ থাকলে বিবিসির মতো চ্যানেল দেখা যায় দেশটিতে। কিন্তু ওই ডিশ কেনাও অনেক ঝক্কির ব্যাপার।

দেশটির তরুণদের অন্যতম স্বপ্ন একটি পাসপোর্ট পাওয়া। অধিকাংশ তরুণই দেশের বাইরে চলে যেতে পারাকে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা মনে করে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইরিত্রিয়ার ৫ লাখ ৭ হাজার ৩০০ মানুষ শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আছে।