একসঙ্গে দুই বছরের জাতীয়|175369|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
একসঙ্গে দুই বছরের জাতীয়

একসঙ্গে দুই বছরের জাতীয়

চলচ্চিত্র পুরস্কার চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে তথ্য মন্ত্রণালয়। এটি দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। সর্বশেষ ২০১৬ সালের চলচ্চিত্রের জন্য ৪১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়েছে গত বছর। সূত্র জানায়, এবার একসঙ্গে দুই বছরের পুরস্কারের ঘোষণা আসছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জন্য পুরস্কারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই ঘোষিত হবে বিজয়ী শিল্পীদের নাম। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কার হাতে উঠবে বিগত দুই বছরের সেরাদের স্বীকৃতি। চলচ্চিত্রপাড়ায় আড্ডা বা চায়ের বৈঠকে ঘুরেফিরে আসছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গ। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির হিসাবটা মিলিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় সবাই।

জানা গেছে, ৪২ ও ৪৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে থাকবে বেশ কিছু চমক। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কীর্তিমান ব্যক্তিদের আজীবন সম্মাননা প্রদান করবে সরকার। এ তালিকায় বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে কিংবদন্তি অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক এটিএম শামসুজ্জামানের নাম। আরও আছে প্রবীর মিত্র, আলমগীর, সোহেল রানা, সুচন্দা, খোরশেদ আলমের মতো গুণীজনদের নাম।

২০১৭ সালের আলোচিত সিনেমা- ‘ডুব’, ‘গহীন বালুচর’, ‘সত্তা’, ‘হালদা’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ও ‘ভুবন মাঝি’। এখান থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এগিয়ে ‘গহীন বালুচর’, ‘সত্তা’, ‘হালদা’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’। পুরস্কারে এগিয়ে থাকতে পারে হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘সত্তা’। সেরা ছবিসহ ‘সত্তা’র ভাগ্যে মিলতে পারে সেরা নায়ক, গায়ক, গায়িকা, সংগীত পরিচালক, গীতিকারের পুরস্কারও। সেরা নায়কসহ আরও কিছু বিভাগে স্বীকৃতি পেতে পারে ‘ঢাকা অ্যাটাক’। অর্থাৎ চিত্রনায়ক শাকিব খান ও আরিফিন শুভ একমঞ্চে আসতে পারেন যৌথভাবে। দুটি সিনেমার মধ্যে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা ও অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতেও শক্ত লড়াই জমবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, এ বি এম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ, মাহিয়া মাহি ও রিনা খানের নাম রয়েছে আলোচনায়। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়ে সিনেমায় অভিষিক্ত হওয়া তাসকিন রহমানও চমক দেখাতে পারেন ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জিতে নিয়ে।

২০১৭ সালের সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে পারেন ‘গহীন বালুচর’ ছবির নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ। তালিকায় আরও আছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন, ‘হালদা’ ছবির নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। এক্ষেত্রে তৌকীর ছাড়া অন্য দুজন জয়ী হলে সেটা হবে তাদের প্রথম পুরস্কার। তবে মৌলিক গল্পে হালদা নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে ‘হালদা’ ছবিটি বেশ কিছু পুরস্কারে এগিয়ে থাকতে পারে। ২০১৬ সালের ছবি ‘অস্তিত্ব’র পর আবারও এই ‘হালদা’ দিয়ে নুসরাত ইমরোজ তিশার হাতে উঠতে পারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের জন্য ‘দেবী’, ‘পোড়ামন ২’, ‘জান্নাত’, ‘দহন’, ‘পুত্র’, ‘কমলা রকেট’, ‘স্বপ্নজাল’সহ আরও কিছু ছবি প্রতিযোগিতায় রয়েছে। তবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় এগিয়ে আছে হুমায়ূন আহমেদের গল্পে নির্মিত ‘দেবী’। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘জান্নাত’ ও সাইফুল ইসলাম মাননু পরিচালিত ‘পুত্র’ ছবি দুটি নায়ক ও পরিচালক বিভাগে চমক দেখাতে পারে। ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’ সিনেমা দুটিতে সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরী জুটির অভিনয় সবার পছন্দ হয়েছে। তারাও সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী ক্যাটাগরির দাবিদার। তবে ‘দেবী’ সিনেমা দিয়ে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন জয়া আহসান এই প্রত্যাশা সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকের। সেইসঙ্গে এই ছবি দিয়ে প্রযোজক হিসেবে নাম লেখানো জয়া সেরা প্রযোজকের স্বীকৃতিটিও ঘরে তুলতে পারেন। গল্পে মিসির আলী প্রধান চরিত্র হলেও সিনেমা বানাতে গিয়ে অনম বিশ্বাস মিসির আলীকে জয়ার ‘রানু’ চরিত্রের ছায়া করে ফেলেছেন। সেইদিক থেকে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা ক্যাটাগরিতে মিসির আলী চরিত্রের চঞ্চল চৌধুরীর নাম এগিয়েই থাকবে। এই ক্যাটাগরিতে লড়াইয়ে থাকবেন ‘জান্নাত’ ছবির জন্য আলীরাজ, ‘পুত্র’ ছবির জন্য অভিনেতা আজিজুল হাকিম, ‘পোড়ামন ২’ ছবির জন্য ফজলুর রহমান বাবু, বাপ্পারাজ ও সাঈদ বাবু, ‘স্বপ্নজাল’ ছবির জন্য ফজলুর রহমান বাবু। সেরা পাশর্^ অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে শবনম ফারিয়ার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেরা চিত্রনাট্য, সেরা চিত্রগ্রাহকসহ কিছু ক্যাটাগরিতে পিপলু খানের পরিচালনায় ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’ নাট্যধর্মী-প্রামাণ্যচিত্রটিও চমক দেখাতে পারে। এ মাসেই আসবে ৪২ ও ৪৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপর নির্ধারিত তারিখে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।