ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশনে আড়াই মাস ধরে তালা|175551|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৪৬
ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশনে আড়াই মাস ধরে তালা
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশনে আড়াই মাস ধরে তালা

সারকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পসমৃদ্ধ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফেঞ্চুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় আড়াই মাস ধরে ঝুলছে তালা। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন কোনো ট্রেনও থামে না এখানে।

ফলে একসময়ের কোলাহলমুখর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। স্টেশনে আসা যাত্রীরাও দুর্ভোগ-ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তারা বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী মাইজগাঁও স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে চড়ছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ব্রিটিশ আমলে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর রেলওয়ে সেতু নির্মাণের সময় নদীর পাড়েই ফেঞ্চুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন স্থাপিত হয়। নদীপথের সঙ্গেও এই স্টেশনের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। ফলে প্রতিদিন যাত্রীর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পণ্য ওঠানামা করত। এই স্টেশনে রেলওয়ের আয়ও ছিল প্রচুর। কিন্তু আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় স্টেশনটি দিনে দিনে জৌলুশ হারিয়ে ফেলে। এত দিন সুরমা মেইল, কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ও জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন এই স্টেশনে যাত্রাবিরতি করেছে।

কিন্তু গত ১২ আগস্ট থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ। স্টেশনের টিকিট কাউন্টারসহ সবগুলো কক্ষ তালাবদ্ধ। এখানে থামছে না কোনো ট্রেন। ফলে অনেক যাত্রী মালপত্র নিয়ে স্টেশনে এসে বিড়ম্বনায় পড়ে পার্শ্ববর্তী মাইজগাঁও স্টেশনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।  

ফেঞ্চুগঞ্জের ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি জালালাবাদ এক্সপ্রেসে কিছু পণ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য স্টেশনে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পান। সেখানে রেলওয়ের কোনো লোকও খুঁজে পাননি। তখন স্টেশনসংলগ্ন একজন ব্যবসায়ী তাকে জানান, দুই মাস ধরে স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পোর্টার সিরাজ মিয়া অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে চলে যাওয়ার পর থেকে স্টেশনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরেক ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকা থেকে পণ্যের একটি চালান নিয়ে আসার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত বুকিং দিয়েছিলেন। কিন্তু এই স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি পাশের মাইজগাঁও স্টেশনে নেমেছেন। পরে বাড়তি পরিবহন খরচ দিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে পৌঁছান।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ স্টেশনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কি না, এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আর এটা হলে ফেঞ্চুগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় পড়বেন।’ তিনি দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনের কার্যক্রম শুরুরও দাবি জানিয়েছেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনের পার্শ্ববর্তী মাইজগাঁও স্টেশনের মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন জানান, ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ থাকলেও মালপত্র বুকিংয়ের কাজ চলছে। মাইজগাঁও স্টেশনেরই একজন বুকিং ক্লার্ক দুই স্টেশনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। স্টেশনের কার্যক্রম ফের চালু হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এটা রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।’