গীতিকারদের লজ্জিত হওয়া উচিত...|175724|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:৫৯
গীতিকারদের লজ্জিত হওয়া উচিত...
সোমেশ্বর অলি

গীতিকারদের লজ্জিত হওয়া উচিত...

সমাজে গীতিকারেরা অবহেলার শিকার- এটা সুপ্রতিষ্ঠিত। এই সিস্টেম এতোটাই প্রচলিত যে, সবাই ভাবতে পারেন অর্থ বা পুরস্কার কোনোটাই তার দরকার নেই। জানেন কি সিনেমার একটি গানের অডিও তৈরি ও শুটিংয়ে কতো বেশি টাকা খরচ করা হয়? সেই তুলনায় গীতিকার কতো কম টাকা সম্মানী পান! তা খুবই সামান্য, নামমাত্র- উল্লেখ করার মতো নয়। রয়্যালটির কথা নাই-বা বললাম। এ বিষয়ে গীতিকারদের জানাশোনাও খুব একটা সুবিধার না।

অডিও গান তথা মিউজিক ভিডিওর বেলাতেও সবচেয়ে অবহেলিত পাত্রটির নাম গীতিকার। কে মডেল হবেন, কে ডিরেক্টর হবেন, সেটা কেমন হবে, কোথায় শুটিং হবে- সবকিছুর বাজেট ঠিকঠাক থাকলেও গীতিকারের কাছে এসে পার্টি চুপসে যায়, বলে, ‘ভাই, কিছু টাকা কম নিয়েন...’।

সিনেমার বাজার ভালো না। গীতিকারদের সবাই সিনেমায় গান লেখার সুযোগ পান না বা লেখেন না। এ ক্ষেত্রে তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গ এলে সবেধন নীলমণি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তো, যে রুচিশীল গীতিকারটি সুযোগের অভাবে বা রুচির প্রশ্নে সিনেমায় গানই লিখলেন না, তিনি কীভাবে জাতীয় বা অন্য পুরস্কারে বিবেচিত হবেন? ফলে স্বীকৃতিহীনই থাকতে হয় তাকে। তিনি চেয়ে চেয়ে দেখেন, তারই লেখা গানে প্রতিষ্ঠিত হলো কতো গায়ক, পেলো অর্থ-সম্মান-স্বীকৃতি! এই চিত্র হতাশার বেদনার।

এদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বাইরে যে দু’ একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান সুনাম কুড়িয়েছে, সেখানে গীতিকারদের মূল্যায়ন করার কোনো কোটা বা শাখা নেই। এ নিয়ে গীতিকারমহলে অসন্তোষ বিরাজ করলেও প্রতিকারের উদ্যোগ নেই। অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্যের মন্দ দিক মাথায় রেখেই বলছি, এতো এতো অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়, গীতিকারের জন্য কোনো কোটা নেই। অথচ তারই লেখা আট-দশ লাইনের ওপর ভিত্তি করে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন সেরা গায়ক, সেরা গায়িকা, সেরা কম্পোজারকে। ভাবা যায়!

গীতিকার হিসেবেই বলছি, এসব মর্মে গীতিকারদের লজ্জিত হওয়া উচিত। চরমভাবে লজ্জিত হওয়া চাই আমাদের।

লজ্জিত হওয়া উচিত এই কারণে যে, নিজে নিজের পারিশ্রমিক বাড়াবেন না, আপনার কলিগ যোগ্যতা/জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক বেশি নিলে, তারই বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাকে বয়কট করবেন...

লজ্জিত হওয়া উচিত এই কারণে যে, ফ্রি গান লিখে দেবে এমন শৌখিন, অমেরুদণ্ডী ও মৌসুমি গীতিকারের অভাব নেই। এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এমন উদ্যোগ নেই।

লজ্জিত হওয়া উচিত এই কারণে যে, গীতিকারদের কোনো ঐক্য নেই, সাংগঠনিক কোনো পরিচয় নেই, নেই পারস্পরিক যোগাযোগ ও শ্রদ্ধাবোধ। ক্রিকেটাররা দাবি আদায়ে মাঠে নামতে পারেন, আপনারা নিজের স্বার্থে ফেসবুকেও টুঁ শব্দ করেন না...

লজ্জিত হওয়া উচিত এই কারণে যে, গীতিকারদের সম্মান নেই এমন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানগুলোতে গিয়েও আপনারা হাসিমুখে সেলফি তোলেন, তেলবাজি জারি রাখেন, সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে নতুন কার জন্য গান লেখা যাবে সেই ধান্দা করেন। সেসব অনুষ্ঠান বয়কট করার চিন্তাও আসে না আপনার উর্বর মস্তিষ্কে।

আপনাদের জয় হোক।

লেখক: গীতিকবি