ট্রেনের সংখ্যা যত বাড়ছে যাতায়াতের সময়ও তত বাড়ছে: রেলমন্ত্রী|176271|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৯
ট্রেনের সংখ্যা যত বাড়ছে যাতায়াতের সময়ও তত বাড়ছে: রেলমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেনের সংখ্যা যত বাড়ছে যাতায়াতের সময়ও তত বাড়ছে: রেলমন্ত্রী

ফাইল ফটো

ট্রেনের সংখ্যা যত বাড়ছে, রেলে যাতায়াতের সময়ও তত বেশি লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান যেসব রেললাইন রয়েছে; সেই সব সিঙ্গেল লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করে সব জেলার ট্রেন।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুরে ‘লোকোমোটিভ সিমুলেটর’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন বলেন, ডাবল লাইনের সংখ্যা বাড়েনি, এতে করে একটি ট্রেনকে অন্য একটি ট্রেন সাইড দিতে গিয়ে সময় চলে যাচ্ছে। ফলে যাতায়াতে দেরি হচ্ছে। এদিকে চালকদের (লোকোমাস্টার) প্রশিক্ষণে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়েতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির লোকোমোটিভ সিমুলেটর।

রেলমন্ত্রী বলেন, আমরা এসব সমস্যা দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর ও জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন। জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন ও চট্টগ্রাম রুটে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

রেলওয়ের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যেখানে রেলওয়েতে পণ্য পরিবহন হতো ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, এখন সেখানে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইলেকট্রিক রেললাইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ট্রেনগুলো ইলেকট্রিকের মাধ্যমে চলতে পারবে কি না, সেটা দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী রেললাইনগুলোতে ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে। প্রথম পর্যায়ে পদ্মা রেল লিংক প্রজেক্টে ইলেকট্রিক রেল যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।

যমুনা সেতুতে নির্মিত রেল সেতু প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আরেকটি রেল সেতু করা হচ্ছে। যার নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ডেডিকেটেড রেল সেতু’। এই সেতুর কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি অথবা ফেব্রম্নয়ারি মাসের দিকে শুরু করতে পারব।  রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুজিবুর রহমান, মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দীন, বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের অ্যাম্বাসেডর আলভারো ডি সালাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্পেন থেকে কেনা হয়েছে সিমুলেটরটি। প্রকৃত বস্তুকে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে যার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় সেটাই সিমুলেটর। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, একজন চালক বাস্তবে যেমন ট্রেন চালিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ঠিক একইভাবে লোকোমোটিভ সিমুলেটরের মাধ্যমে গ্রাফিকস ভিডিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমলাপুরে স্থাপিত সিমুলেটরে আপাতত দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের কিছু অংশের ভিডিও গ্রাফিকস সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-আখাউড়া অংশের ১৫০ কিলোমিটার ও ঢাকা-খুলনা রেলপথের ১৫০ কিলোমিটারের ভিডিও গ্রাফিকসে যুক্ত হয়েছে। এই দুই ভিডিও গ্রাফিকসে রেলপথ দুটির বাস্তব অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে।

স্পেন থেকে কেনা সিমুলেটরটিতে ট্রেন চালানোর সময় ১২ ধরনের প্রতিবন্ধকতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে রেল কর্মকর্তারা বলেন, ট্রেন চালানোর সময় হঠাৎ সামনে কোনো মোটরযান বা অন্য কিছু চলে এলে তাৎক্ষণিক করণীয় কী হবে, তা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। লেভেল ক্রসিং, সিগন্যালিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চালকের করণীয় নিয়েও প্রশিক্ষণের সুবিধা রয়েছে। ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের অনেক বিষয় এ সিমুলেটরে সংযুক্ত আছে।