নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন: খবর প্রকাশের পর মামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার|178310|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:১৫
ফলোআপ
নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন: খবর প্রকাশের পর মামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
বগুড়া প্রতিনিধি

নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন: খবর প্রকাশের পর মামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারকৃত রাফি (২৫)।

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার শিল্পী বেগমের সৎ ভাই মামুন হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত রাফি (২৫) শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে রবিবার ফুলকপির চারা নষ্টের মিথ্যা অভিযোগ তুলে বগুড়ার শিবগঞ্জে এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ সত্যেও থানা-পুলিশের মামলা না নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের দিনই রবিবার বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ নির্যাতনের শিকার শিল্পী বেগমের গ্রামের বাড়ি যায়। তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার সৎ ভাই বগুড়া সদর উপজেলার পলাশবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মামুন হোসেনকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে বাদী দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় রাফিকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সন্ধ্যার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রাফিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সানোয়ার হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের শিল্পী বেগম (৪০) নামের এক নারীকে শুক্রবার সকালে জমিতে কপির চারা নষ্ট করার অভিযোগ একই গ্রামের রাফি ও তার লোকজন বাঁশের খুঁটির সাথে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে। পরে তাকে থানা-পুলিশে সোপর্দ করে। থানা-পুলিশ ওই নারীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে যায়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ঘটনার বিবরণ জানার পর ওই নারীকেই বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেন। কিন্তু থানা-পুলিশ কোনো মামলা না নিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, বগুড়া সদর উপজেলার পলাশবাড়ি গ্রামের শিল্পী বেগম গৃহ নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অনন্তবালা গ্রামের শহিদুলের ছেলে রাফি তাকে প্রায় ৯ মাস আগে বিয়ে করে। তারা বগুড়া শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বেশ কিছুদিন একসঙ্গেই ছিল। গত মাসে রাফি তার স্ত্রী শিল্পীকে রেখে গ্রামের বাড়ি চলে আসে। এরপর থেকে সে স্ত্রীর কোন খোঁজখবর না নেওয়ায় শুক্রবার সকালে অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে যান শিল্পী। রাফি ও তার পরিবারের লোকজন এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফুলকপি খেতে নিয়ে গিয়ে একটি বাঁশের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে  মারপিট করে। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) মাধ্যমে তাকে শিবগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন: নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, ইউএনওর নির্দেশেও মামলা নেয়নি পুলিশ