প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু|178673|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৩
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার মাধ্যমে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

দীর্ঘদিনের দাবি, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার পর মঙ্গলবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে কমিশন।

আগারগাঁও নির্বাচন ভবন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেন, প্রায় ৯০ লাখ ভোটার হওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাস জীবনযাপন করেন। তাদের অধিকাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। ফলে তারা ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারেননি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ, ভোটার হিসাবে নিবন্ধন প্রদান এবং ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কতিপয় ধাপ অনুসরণ করা হবে। তারা অনলাইনে ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশে বসেই আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত আবেদনসমূহের প্রদত্ত ঠিকানার ভিত্তিতে উপজেলা, থানা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করা হবে। আমি টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে উক্ত পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করলাম।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা: services.nidw.gov.bd। আবেদনের পর সেই সব আবেদন সঠিক কি না, ইসি তা কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করবে। যাচাইবাছাই শেষে ইসির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে যোগ্য ও সঠিক আবেদনকারীদের ছবি তোলাসহ ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের মনির ছাপ (আইরিশ) গ্রহণ করবেন। প্রবাসীদের ফরম পূরণের ক্ষেত্রে আটটি তথ্য দিতে হবে। সেগুলো হলো— পিতা ও মাতার নাম ইংরেজি ও বাংলায়, বসবাসরত দেশের নাম, জিপ কোড, বাসা ও হোল্ডিং নম্বর, স্টেট বা প্রদেশ, ফোন নম্বর, শনাক্তকারী ব্যক্তির নাম প্রভৃতি। এছাড়াও পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করতে হবে।

মালয়েশিয়া ছাড়াও যুক্তরাজ্য, দুবাই ও সৌদি আরবের প্রবাসীরা এই সুযোগ পাবেন। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই সুযোগ পাবেন। এ জন্য ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে।

এর আগে ইসি সরাসরি সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের ভোটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে যথাসময়ে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। পরে ইসি তাদের সিদ্ধান্ত পালটে মালয়েশিয়ায় অনলাইনে নিবন্ধনের পদক্ষেপ নেয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে দেশের উচ্চ আদালত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কোটির ওপরে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। বর্তমান কমিশনের এই উদ্যোগে তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।