ফেনীর বড় অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে: ভাসানী পরিষদ|179018|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১০
ফেনীর বড় অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে: ভাসানী পরিষদ
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর বড় অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে: ভাসানী পরিষদ

ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়ার ফলে ফেনীর বড় একটি অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন ভাসানী অনুসারি পরিষদের বিশেষজ্ঞরা। 

ফেনীতে প্রশাসনিক বাধায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করতে না পেরে বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের তারা এসব বলেন।  

বুধবার বিকেলে ফেনীর একাডেমি এলাকার প্রিন্স কমিউনিটি সেন্টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন প্রশাসনিক বাধার কারণে করতে পারেননি তারা।

পরে কমিউনিটি সেন্টারে বাইরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাসানী অনুসারি পরিষদ। 

এ সময় পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের জনগণের খাবার পানির জন্য সম্পাদিত চুক্তির বিপক্ষে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান নয়। কিন্তু ফেনী নদীর পানি যদি অন্য কাজে লাগানো হয়, অথবা বন্ধুদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের হাজার হাজার জেলে, কৃষক অসহায় হয়ে পড়ে, তাহলে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার চুক্তিতে দেশীয় স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি বলে প্রতিয়মান হবে। 

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার চুক্তি করেছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আমরা সেটি লক্ষ্য করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ পানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল পরিদর্শন করি এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি ফেনী নদী কোন আন্তর্জাতিক নদী নয়। এটি বাংলাদেশের নদী। কাজেই অমিমাংসিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর হিস্যার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ফেনী নদীর পানি দেওয়া আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। 

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, গণবিরোধী একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি, যা স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে দুঃখজনক। 

প্রতিনিধি দলের সদস্য গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী বলেন, বন্ধুপ্রতিম ভারতের জনগণের কষ্ট, প্রয়োজনিয়তা এবং মানবিক বিবেচনায় সম্পাদিত ফেনী নদীর পানি নেয়া চুক্তিকে অশ্রদ্ধাভরে দেখছি না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাম্প দিয়ে পানি তুলে নেয়ার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কারণ চুক্তিতে যে পরিমান পানি তোলার কথা বলা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি পানি অবৈধভাবে নেয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এটি বন্ধ না হলে ফেনীর বিশাল একটি অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। ব্যাহত হবে এখানকার কৃষি ও মৎস্য চাষ।

পানি বিশেষজ্ঞ ও জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. ম ইনামুল হক বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ৭০
কিউসেক পানি প্রত্যাহার নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তার হিস্যা যেখানে আমরা পাচ্ছি না সেখানে চুক্তির ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন। 

তিনি বলেন, আমাদের উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বিজিবির মাধ্যমে জানা যায়, ভারত ৩৬টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্পের মাধ্যমে ৭০ কিউসেকের বেশি পানি কোনোরকম সমঝোতা ছাড়াই উত্তোলন করে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তিসহ বাংলাদেশের আন্তজার্তিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি মীমাংসা ছাড়াই ফেনী নদীর পানি ভারতে দেয়ার চুক্তিতে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনুছ মৃধা, ফরিদ উদ্দিন, মো. ইসমাইল, কে.এম রকিবুল ইসলাম রিপন এবং ভাষানী অনুসারী পরিষদের ফেনী ও স্থানীয় সদস্যরা।