জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন|179174|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন
শাহীন হাসনাত

জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন

মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে অনেক বিষয়ের পাশাপাশি শলাপরামর্শও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে ইসলাম ধর্মে পরামর্শ করার ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরামর্শের ভিত্তিতে কোনো কাজ করা হলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব কাজ সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়। পরামর্শ করে কাজ করলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও পরামর্শ করে কাজ করতেন। আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব ও অহঙ্কার পরিহার করে অন্যদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করা ইসলামেরই শিক্ষা। পরামর্শ করে কাজ করলে মানুষ ছোট হয় না।

পবিত্র কোরআনে উত্তম প্রতিদান যারা পাবেন তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে সুরা আশ শুরার ৩৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা তাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে।’ বর্ণিত আয়াত থেকে বোঝা যায়, মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা যেকোনো কাজ করার আগে পরামর্শ করে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলাম মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে বেরিয়ে অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতে বলেছে। এর ফলে মানুষ যেমন উত্তম ফলাফল পায়, তেমনি পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐক্য জোরদার হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে পরামর্শ নিয়ে কাজ করে তাকে লজ্জিত হতে হয় না। যে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করে সে নিরাপদ থাকে।’ ইসলামে পরামর্শের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলেও তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ওই তিন শ্রেণির মানুষ হলো- ভীতু, লোভী ও কৃপণ।

ভীতু লোকের সঙ্গে পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তারা অতিরিক্ত ভয়ের কারণে কখনই কোনো ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। স্বভাবে ভীতি থাকা মানুষের আত্মবিশ্বাস, ইমানের দুর্বলতা ও অক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। এই শ্রেণির মানুষ কোনো বিপদে পড়লে গোপন তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। কৃপণের সঙ্গে পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তারা অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারে না। আর লোভীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে নেই, কেননা সে লোভ-লালসাকে সবসময় বড় করে দেখে। অভিজ্ঞদের মতে, ‘কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শের চেয়ে নিরাপদ অবলম্বন আর কিছু নেই।’ এরপরও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে পরামর্শকে পাশ কাটিয়ে চলে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, পরিবারের সদস্যরা হচ্ছে সবচেয়ে কাছের মানুষ। তারা সব সময় পরস্পরের জন্য সবচেয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরামর্শ করে কাজ করলে জটিল সমস্যাপূর্ণ বিষয়ের সহজ সমাধান পাওয়া যায়। এতে ভুল কম হয়, কাজ সুচারু ও সুনিপুণ হয়। মানুষের মধ্যে দলাদলির সৃষ্টি হয় না। কাজ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয় না। পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে লজ্জিত হতে হয় না, কারণ ওই কাজের পেছনে আরও অনেকের সমর্থন ও মত থাকে। পরামর্শভিত্তিক কাজে ব্যর্থতা এলে তাতে অন্যের সহানুভূতি পাওয়া যায়।

অবশ্য সব মানুষই পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য নন। আগেও বলা হয়েছে তিন শ্রেণির লোককে এড়িয়ে চলতে। সেই সঙ্গে যারা কুপরামর্শ দেয়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরামর্শ করার অর্থ হলো, এমন সব ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করা, যারা জ্ঞানী, যারা সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বোঝে এবং যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন কারণে পরামর্শ করি না। এসবের একটি হলো- আত্মম্ভরিতা অর্থাৎ আমিই সবার চেয়ে বেশি বুঝি। এছাড়া অন্যের ওপর আস্থার অভাবের কারণেও আমরা পরামর্শ করতে চাই না। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্যের জন্য আত্মম্ভরিতা পরিহার করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

লেখক : মুফতি ও ইসলামবিষয়ক লেখক