মেয়াদ শেষ হয়, কাজ শেষ হয় না|179367|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মেয়াদ শেষ হয়, কাজ শেষ হয় না
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মেয়াদ শেষ হয়, কাজ শেষ হয় না

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে স্বপ্নের বেড়িবাঁধ যে আশা নিয়ে কাজটি শুরু হয়েছিল বারবার সময়ক্ষেপণের ফলে তা অনেকটা মøান হতে বসেছে। বেড়িবাঁধের একদিকের কাজ শেষ না হতে অন্যদিকে খসে পড়ছে ব্লকের আস্তরণ। কাজের ধীরগতির কারণে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন উপকূলের জনগণ।

আকাশে যখন মেঘ জমে তখন যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ খোলা রয়েছে, যেগুলোর কাজ এখনো শেষ করা হয়নি সেসব এলাকার জনগণের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধের কাজ চলমান সেসব এলাকায় দায়িত্বরত পাউবো কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যেন অলিক বস্তু।

তারা গাড়িতে চড়ে এসে খানিক পরে আবারও চলে যান। ফলে তদারকিহীন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে সাধারণ জনগণ। বাঁশখালীতে পাউবো অফিস থাকলেও সেখানে তারা অবস্থান করেন না। এমনকি এ অফিসে জাতীয় পতাকাও তোলা হয় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বাঁশখালী উপজেলার পোল্ডার নং-৬৪/১এ, ৬৪/১বি এবং ৬৪/১সি-এর সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০১৫-এর ১ মে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ধরা হয়। প্রকল্পে ঢাল সংরক্ষণসহ বাঁধ নির্মাণ ৯ দশমিক ৯০০ কিলোমিটার, নদী তীর সংরক্ষণ কাজ ৩ দশমিক ৮৪৮ কিলোমিটার, বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ২ কিলোমিটার। ৩৪ প্যাকেজে কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হাছান অ্যান্ড ব্রাদার্স ২০টি প্যাকেজ, মেসার্স মশিউর রহমান আটটি প্যাকেজ, মেসার্স আরাধনা এন্টারপ্রাইজ দুটি প্যাকেজ, মোস্তফা অ্যান্ড সন্স দুটি প্যাকেজ, নিয়াজ ট্রেডার্স একটি প্যাকেজ ও আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স একটি প্যাকেজের কার্যাদেশ পেয়েছে। এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে খানখানাবাদে ৪ হাজার ৫০০ মিটার, ছনুয়ায় ৩ হাজার ২০০ মিটার, সাধনপুরে ২ হাজার ৭৯ মিটার, পুকুরিয়ায় ১ হাজার ২৬৯ মিটার, গ-ামারায় ৯০০ মিটার কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ঢাল সংরক্ষণসহ বাঁধ নির্মাণ এবং নদী তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, সমুদ্রের লোনা পানির প্রবেশ রোধ এবং নদীভাঙন রোধ করতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জানমাল ও ফসলহানি হ্রাসে বন্যার মাত্রা কমাতে নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রকল্পটি সহায়ক ও উপকৃত হবে বাঁশখালীর জনগণ।

কিন্তু বারবার সময় পিছিয়ে যাওয়া এবং ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে বর্তমান সরকারের বিশাল এ প্রকল্পটি অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে । বাঁশখালী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের প্রকল্পের মেয়াদ আছে ছয় মাস। তার আগেই খানখানাবাদ অংশের নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নকশা অনুমোদন হলে প্রকল্পের ব্যয় আরও একদফা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে পাউবোর প্রকৌশলীরা নকশা পরিবর্তন ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভূমি সমতল (রিডিউস লেভেল) নেমে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০১১-১২ সালে প্রকল্পের মূল জরিপ হয়। ২০১৩ সালে বাঁধের নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। পরে নির্মাণসামগ্রী দাম বাড়া ও ঠিকাদারদের আপত্তির মুখে ২০১৫ সালে বাঁধ নির্মাণে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার অনুমোদন দেয় সরকার। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯০ কোটি টাকা ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২০ কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় আবারও বাড়লে তা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

জানতে চাইলে পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাঁধের কাজ করা যাচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারদের চিঠি দিয়েছি। চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ খ ম জুলফিকার তারেক বলেন, কিছু ব্লকে অসংগতি থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছর আগে যখন বাঁধের নকশা অনুমোদন হয়েছিল তখনের চেয়ে এখন আরএল (রিডিউস লেভেল) অনেক কমে গেছে। আগে আরএল ২ দশমিক ৮ থাকলেও এখন তা নেমে ১ দশমিক ৩০ ও ১ দশমিক ৫-এ নেমে এসেছে। যে কারণে খানখানাবাদ অংশে নকশা কিছুটা পরিবর্তন করা হবে। নকশা পরিবর্তন হলে আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যয় বাড়তে পারে।