পরস্পরকে দুষছেন বিএনপি নেতারা|179447|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
পরস্পরকে দুষছেন বিএনপি নেতারা
রেজাউল করিম লাবলু

পরস্পরকে দুষছেন বিএনপি নেতারা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের ২০ মাসেও তার মুক্তির দাবিতে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার জন্য দলটির দায়িত্বশীল নেতারা একে অপরকে দায়ী করছেন। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে পারব না। তাকে মুক্ত করতে না পারলে এবং কারাগারে অপ্রীতিকর কিছু ঘটে গেলে তার দায়ভার শুধু সরকার নয়, বিএনপিকেও নিতে হবে।

পারস্পরিক দোষারোপের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। পারস্পরিক দোষারোপের কিছু নেই। সময় হলে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, দলের পুনর্গঠন চলছে। শেষ হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালনের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখছেন না বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫০২ জন। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন ১৯ জন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৭৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৫ জন এবং যুগ্ম মহাসচিব ৭ জন। যাদের পদ আছে তাদের দায়িত্ব আন্দোলন কর্মসূচিতে থাকা। কিন্তু পদে থাকার পরও নানা অজুহাতে তারা চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নেন না। যারা কর্মসূচিতে আসেন না তাদের অভিযোগ তাদেরকে দপ্তর থেকে কিছু জানানো হয় না। এটা কোনো অভিযোগ হতে পারে না। যেহেতু দল এখন বিরোধী দলেও নেই সেহেতু নেতাদের উচিত কার্যালয়মুখী হওয়া। নেতারা কার্যালয়মুখী হন না।

তিনি বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য রাখেন। সেখানে নিয়মিত কিছু নেতা যান। বাকিরা যান না। তাদের অভিযোগ, তাদের ডাকা হয় না। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান ’৯০-এর ডাকসুর ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করে তা পালন করেন। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালন করলে কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তি হবে না।

পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়ে জানতে আমান উল্লাহ আমানের মোবাইল ফোনে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে আমানের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা কর্মসূচির বিষয়ে কোনো কিছু জানান না। তাই ভাই কর্মসূচিতে যান না।  

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে। তিনি সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপরও আমরা তার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দিচ্ছি না। আবার বলছি আমরা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। যদি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থেকেই থাকি তাহলে কেন রাজপথে নামছি না। আর কবে আমরা রাজপথে নামব।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরস্পরকে দোষারোপের সময় এখন নয়। এখন ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। রাগ-অভিমান ভুলে কর্মসূচিতে ডাকল কি ডাকল না তার অপেক্ষায় না থেকে সবার উচিত নিজ দায়িত্বে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া। পরস্পরের সঙ্গে পরস্পরের আলাপ-আলোচনা করা। দলের চেয়ারপারসনের দিকে তাকিয়ে তার গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে দলের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করা উচিত।