সাবেকদের দখলে লাইব্রেরি|179456|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সাবেকদের দখলে লাইব্রেরি
তানভীর হাসান, ঢাবি

সাবেকদের দখলে লাইব্রেরি

প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থী বাড়লেও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের আসন একই রয়েছে। নেই সময়োপযোগী বই ও জার্নাল। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ২০তলা গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এরপর সমস্যা থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে গড়ে প্রতিদিন হাজারখানেক শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও আসন মাত্র ৬৬০টি। এই আসনের অনেকগুলো আবার ব্যবহারের অনুপযোগী। ভালো আসনগুলো দখলে থাকে সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে এসে বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে যান।

গ্রন্থাগার খোলার অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের ব্যাগের দীর্ঘ লাইন এখন প্রতিদিনের চিত্র। পরীক্ষা এলে ব্যাগের এই লাইন ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ছাড়িয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগত ঠেকাতে ডিজিটাল গেট করা হলেও কাজে আসছে না। গেট আংশিকভাবে চালু হওয়ায় তার দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছেন বহিরাগতরা। এ জন্য তারা ডিজিটাল গেট পরিপূর্ণভাবে চালু করার দাবি জানান। এটি হলে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল কার্ডের (আইডি) কিউআর কোড দেখিয়ে দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারবেন।

১৯২১ সালে তৎকালীন ঢাকা কলেজের গ্রন্থাগারের ১৭ হাজারের সঙ্গে এক হাজার বই যোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগ্রার চালু করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজারের মতো বই ও সাময়িকী রয়েছে। কিন্তু এসব বই যুগোপযোগী না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। বই সন্ধানে ডিজিটাল কল চালু করা হলেও কলে সঠিক বই পাওয়া যায় না। দরকারি বইয়ের চাহিদা দিলে গ্রন্থাগারের দায়িত্বরতরা সাফ বলে দেন নেই।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের টয়লেটের অবস্থা খুবই নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে বসে পড়ালেখা করা যায় না। এর সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। সবগুলো মিছিল গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে স্লোগান দেওয়ায় পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিলয় কুমার বর্মণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটু দেরি করে গেলেই লাইব্রেরিতে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। আগের দিনই অনেকে ব্যাগ-বই রেখে জায়গা দখল করে আসেন। চাহিদা দিয়েও প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায় না। কিছু বললে দায়িত্বরতরা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক এস এম জাবেদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক কিছুই নেই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। লাইব্রেরি ভবনের ফাউন্ডেশন তিনতলা হওয়ায় বর্ধিত করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া বাজেটে বরাদ্দও কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক বিশ্ববিদ্যালয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারে। আমাদের এখানেও শুরু করা গেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদামতো বই ও জার্নাল পাবে।’

গ্রন্থাগারের নানা সংকটের কথা স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমরা জায়গা দিতে পারছি না। এর বড় কারণ, শিক্ষার্থী বাড়লেও আমরা গ্রন্থাগারের আসন বাড়াতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে নতুন ২০তলা গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এর নির্মাণকাজ শেষ করা গেলে অনেক সমস্যা কেটে যাবে।’