‘প্রায় রাতেই আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিত’|179471|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
‘প্রায় রাতেই আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিত’
সাভার প্রতিনিধি

‘প্রায় রাতেই আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিত’

‘নুসরাত তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আর আমি বেঁচেও মরে আছি। আমার স্বামী প্রায় রাতেই আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিত। এ সময় আপত্তিকর ছবি তুলে ও ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। আমার মরে যাওয়াই ভালো। কিন্তু একমাত্র ছেলের কথা ভেবে পারছি না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সাভার পৌর এলাকার বাড্ডা ভাটপাড়া মহল্লার প্রফুল্ল সরকারের ছেলে মিঠুন সরকারের স্ত্রী।

কয়েক দিন আগে এক কিশোর বলাৎকারের ঘটনায় মিঠুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। এ ঘটনায় গা ঢাকা দেয় মিঠুন।

এতদিন স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারেননি স্ত্রী। তবে মিঠুন পালানোর পর ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। গত শুক্রবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাভার মডেল থানায় জিডি করেন। গত রবিবার করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ একটি পিটিশন মামলা। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।

মামলা ও জিডি থেকে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে কাউকে না জানিয়ে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে মিঠুন। এরপর থেকেই শুরু হয় টাকার জন্য শারীরিকসহ নানাভাবে স্ত্রীকে নির্যাতন। গালিগালাজ আর মারধর ছিল নিত্যঘটনা। এছাড়া মাঝেমধ্যেই রাতে মিঠুন যুবকদের বাসায় নিয়ে আসত এবং স্ত্রীকে তাদের হাতে তুলে দিত। ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে অন্য পুরুষকে দিয়েও স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করাত। সেগুলোর ভিডিও করে ওই যুবকদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত সে।

মিঠুনের স্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রতি ওর কোনো মোহ নেই। ও যুবকদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে ভালোবাসে। সে একজন সমকামী ও কুরুচিসম্পন্ন মানুষ। এসব কাজে বাধা দিলেই আমাকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক মাস আগে মিঠুন আমাকে ঘুমের ট্যাবলেট খেতে দেয়। কিন্তু কৌশলে ট্যাবলেট না খেয়ে আমি ঘুমের অভিনয় করি। পরে মিঠুনের সহযোগিতায় ওই রাতে এক যুবক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই যুবকের সঙ্গে কিছু আপত্তিকর ছবি তোলে ও ভিডিও করে। প্রতিবাদ করলেই মিঠুন এসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিত।’

সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ জানান, মিঠুনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর এক কিশোর বলাৎকারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। এছাড়া স্ত্রী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও জিডি করেছেন; যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।