মুক্তিযোদ্ধা পাবেন পরিচয়পত্র, কবর হবে একই রকম|179482|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
গাজীপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযোদ্ধা পাবেন পরিচয়পত্র, কবর হবে একই রকম
গাজীপুর প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধা পাবেন পরিচয়পত্র, কবর হবে একই রকম

আগামী জানুয়ারি থেকে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে দেওয়া পরিচয়পত্রের পেছনে উল্লেখ থাকবে কী কী সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন। একই মাস থেকে সব মুক্তিযোদ্ধার কবরের নকশা একই রকম হবে। এ ছাড়া রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ হবে, মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহরে অবস্থিত শহীদ বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটি ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজাকারদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখা সংযুক্ত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে অসন্তোষ আছে, যা হওয়া উচিত তা হয়নি। আগামী বছর তা পূরণ করা হবে। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি করে দেওয়া হবে, এর একটি বাড়ির মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা যেমন লেখা থাকবে, একই সঙ্গে একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আল বদর আলশামস, জামায়াতে ইসলামী, রাজাকারদের কী ভূমিকা ছিল তা-ও পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকবে। বিসিএস পরীক্ষায় ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের ওপর ৫০ নম্বর ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর ৫০ নম্বর, মোট ১০০ নম্বর ২০২০ সাল থেকে প্রবর্তিত হবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মো. রশিদুল আলম। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হবে। তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লা খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ মো. ইকবাল হোসেন সবুজ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমেদ, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আবদুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন, নরসিংদীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মোতালিব পাঠান, নেত্রকোনার মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন, শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম হিরু, জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী, মানিকগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা মমিন উদ্দিন খান, টাঙ্গাইল সদরের মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও বর্তমানে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।