হলে ফোন-ব্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা|179484|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
কুবিতে ভর্তি পরীক্ষা
হলে ফোন-ব্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা
কুবি প্রতিনিধি

হলে ফোন-ব্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা

অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম দিনের ভর্তি পরীক্ষা। গতকাল শুক্রবার সকালে ‘এ’ এবং বিকেলে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা হয়। সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ (ডিগ্রি শাখা-২) কেন্দ্রে ভর্তিচ্ছুদের হলে মোবাইল ও ব্যাগসহ ঢুকতে দেখা গেছে। কেউ আবার ভেতরে মোবাইল ব্যবহারও করেছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে না আসায় পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি; কোথাও আবার দেওয়া হয়েছে। এদিকে সকালের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও বিকেলে গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, কুমিল্লা কেন্দ্রে মোবাইল ও ব্যাগসহ শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ (ডিগ্রি শাখা-২) কেন্দ্রের সমন্বয়ক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে এমন হয়েছে। বিকেলের পরীক্ষায় কোনো অভিভাবক যাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারেন এবং ভর্তিচ্ছুরা ব্যাগ ও মোবাইল নিতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ একই কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আর এগুলো তো প্রশাসন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দেখবেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামালউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পর তারা মোবাইলগুলো জব্দ করে।’

এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী এলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে ভিন্ন চিত্র বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে। ফারহানা খানম নামে একজন ১৮ মিনিট পর আসায় ঢুকতে না দেওয়ায় আহাজারি শুরু করেন। ২৫ মিনিট পর তাকে প্রবেশ করার অনুমতি দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। পরে তিনি বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়। আর ব্যাগ, মোবাইলের বিষয়টি নজরে আসেনি। তবুও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

ঢুকতে না দেওয়ায় কয়েকজন ভর্তিচ্ছু এবং অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার জন্য একই নিয়ম হওয়া উচিত। পাঁচ মিনিট পর এসেও অনেকে প্রবেশ করতে পারেনি; আবার ১৮ মিনিট পর এসে পরীক্ষা দিয়েছে। এমন অনিয়ম হতাশাজনক।’

তল্লাশি ছাড়া কেন শিক্ষার্থীদের ঢোকানো হচ্ছে এমন প্রশ্নে ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক চেক ছাড়াই ভর্তিচ্ছুদের প্রবেশ করাতে বলেছেন।’ বিষয়টি স্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাইরে ব্যাগ রেখে পরীক্ষা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তাই ব্যাগ নিয়ে ঢোকার অনুমতি দিয়েছি।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এমন নির্দেশনা ছিল কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, না, এমন নির্দেশনা ছিল না। পরে ব্যাগগুলো বাইরে রেখে দেওয়া হয়।