‘বুলবুলের’ আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা|179708|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৩
‘বুলবুলের’ আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

‘বুলবুলের’ আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কাঁচা ঘরবাড়ি মৎস্য ঘের ও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্র নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে শ্যামনগরের গাবুরায় ঝড়ের রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক মৎস্য চাষি মারা গেছেন।

শনিবার রাত ৩টা থেকে শুরু হয়ে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে বুলবুল। যার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার।

বর্তমানে ঝড়ের গতি কমে যাওয়ায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতে আনা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কাঁচাঘর বাড়ি, মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে প্রায় ৬০/৭০ ভাগ ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এখনও পর্যন্ত জেলায় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান, ১২ শত হেক্টর সবজি, ৫০০ হেক্টর সরিষা, ২০০ হেক্টর কুল ও ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে।

বুড়িগোয়ালীনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমার ইউনিয়ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাতাসের তীব্রতা এতো ছিল যে এখানকার অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। কাঁচা ঘর সব নষ্ট হয়ে গেছে, কাঁচা ঘরের টিন ও অ্যালবেস্টার উড়ে গেছে। চিংড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে একাকার হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ছে আমার এলাকার কিছু বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ আছে সেগুলো সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করছি। এখন জোয়ার চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাস্তার গাছ সরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।’

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল রবিবার ভোরে সাতক্ষীরা উপকূলের আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ কাঁচা ঘর নষ্ট হয়েছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘের ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়া মাত্র আমরা উদ্ধার কাজে নামবো।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাস্তার উপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে।

শ্যামনগরের খানপুর, চন্ডিপুর, শ্যামনগর সদর, উত্তর বাঁধঘাটা, ইসমাইলপুর, হাইবাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তার-ঘাটে পড়ে থাকা গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছেন।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী মাসুদুল আলম বলেন, ঝড়ের রাতে একজন মৎস্যচাষি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি চকবারা গ্রামের আব্দুল আজিজ সরদারের ছেলে আবুল কালাম (৪০)। তার মৃত্যুর সাথে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৪ হাজার ঘর ভেঙে গেছে। মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এই অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। মানুষ এখন সাইক্লোন শেল্টারে এবং নিরাপদে আছে।’