চীনে আত্মহত্যা ঠেকাচ্ছে এআই প্রযুক্তি|179740|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:২২
চীনে আত্মহত্যা ঠেকাচ্ছে এআই প্রযুক্তি
অনলাইন ডেস্ক

চীনে আত্মহত্যা ঠেকাচ্ছে এআই প্রযুক্তি

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে দূরে বসে আত্মহত্যা ঠেকানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চীনের প্রযুক্তিবিদ হুয়াং জিশেং।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিগত হতাশা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিলেই দূর নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটারের অ্যালগরিদম সেটি ধরে ফেলছে। এরপর ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করেন জিশেংয়ের সঙ্গে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকেরা। তারা খবর দেন স্থানীয় পুলিশকে।

এই প্রযুক্তির সাফল্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেখানে ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লি ফ্যানের জীবন ফিরে পাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

টুইটারের মতো চীনের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে লি ফ্যান একটি বার্তা পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আর পারছি না, সব ছেড়ে দিচ্ছি।’

এর কিছুক্ষণ পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে লি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এছাড়া মায়ের সঙ্গে বিবাদ চলছিল। সেই থেকে তাকে ঘিরে ধরে চরম হতাশা।

তার বিশ্ববিদ্যালয় নানজিং থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আমস্টারডামের একটি কম্পিউটারে চলমান ওই এআই প্রোগ্রামে শনাক্ত করা হয় চীনের এই শিক্ষার্থীর পোস্টটি। সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকেরা ব্যবস্থা নেন।

এত দূর থেকে লিকে জাগিয়ে তুলেতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্থানীয় পুলিশের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। এরপর পুলিশ তাকে বাঁচায়।

গত ১৮ মাসে চীন-জুড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ৭০০ মানুষকে বাঁচিয়েছেন।

প্রথম রেসকিউ অপারেশন চালানো হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল।

জাভা-ভিত্তিক এই প্রোগ্রামটি উইবোতে কিছু ‘ট্রি হোলস’ মনিটর করে এবং সেখানে পোস্ট করা কিছু বার্তা বিশ্লেষণ করে থাকে।

একটি ‘ট্রি হোল’ হচ্ছে ইন্টারনেটে যেসব জায়গায় লোকজন অন্যদের পড়ার জন্য গোপনে পোস্ট করে তার একটি চীনা নাম।

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ ধরনের কোনো পোস্ট শনাক্ত করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে র‍্যাংক দেয়া হয়।

র‍্যাংক এ-নাইন বা নয় হলে বুঝতে হবে খুব শিগগিরই একটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো হবে। এ-টেন বা ১০ নম্বর র‍্যাংকিং মানে হল, ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকেরা সরাসরি পুলিশকে খবর দেন, সেই সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।