ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দেশে ফিরছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সেই সুমি |179850|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:১৭
ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দেশে ফিরছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সেই সুমি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দেশে ফিরছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সেই সুমি

সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার সুমি আক্তারকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দেশে ফিরে আসছেন। রবিবার জেদ্দা প্রদেশের নাজরান শহরে অবস্থিত শ্রম আদালত এক শুনানি শেষে তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভে নিজের ওপর নিয়োগকর্তার নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন সুমি। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে দূতাবাসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে সৌদি পুলিশ। তবে সুমির নিয়োগকর্তা তাকে ফেরত নিতে ২২ হাজার রিয়েল (৫ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল শ্রম আদালতে এ বিষয়ে একটি শুনানির আবেদন করে। শুনানিতে আদালত নিয়োগকর্তার দাবি করা অর্থ নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সুমিকে ফাইনাল এক্সিট দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সুমির ভিডির ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) তাকে উদ্ধার করতে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠায়। এরপর দেশটির পুলিশের হেফাজতে একটি সেফহোমে তাকে রাখা হয়। তবে সুমির নিয়োগদাতা তাকে দেশত্যাগের অনুমতি না দেওয়ায় আইনি জটিলটায় আটকে যায় তার দেশে ফেরা।

সুমিকে দেশে ফেরাতে ট্রাভেল এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’কে বিমানের টিকিটসহ ২২ হাজার রিয়াল (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা) দেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে গত ৫ নভেম্বর অনুরোধ করে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এরপর নাজরান শহরের শ্রম আদালতে রবিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সুমি আক্তারের নিয়োগকর্তা, সুমি আক্তার ও কনস্যুলেট প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে কফিলের দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়েল পরিশোধের আবেদন নামঞ্জুর হয়। পাশাপাশি কনস্যুলেটের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুমি আক্তারকে কফিল কর্তৃক ‘ফাইনাল এক্সিট’ দেওয়ার দাবি শ্রম আদালত মঞ্জুর করেন।

এদিকে আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় জেদ্দা কনস্যুলেট একটি চিঠি ইস্যু করেছে। কনস্যুলেটের প্রথম সচিব কে এম সালাহ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, শ্রম আদালতের আদেশের পর তাৎক্ষণিকভাবে সুমি আক্তারকে তার বর্তমান কফিল ‘ফাইনাল এক্সিট’ দেন। সুমি আক্তারকে জেদ্দার কনস্যুলেটের প্রচেষ্টায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

বোর্ডের উপপরিচালক জাহিদ আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কনস্যুলেটের অনুরোধে আদালতের নির্দেশেই সুমির মালিক ফাইনাল এক্সিট দিয়েছে। আমরা এখন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে তার টিকেটের ব্যবস্থা করছি। দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

ঢাকার আশুলিয়ার নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুমি আক্তার মে মাসে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে সৌদি আরবের নাজরান যান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে এক বাড়িতে গৃহকর্মীর চাকরি দেওয়া হয়। ভিডিও বার্তায় সুমি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাকে ঠিকমতো খেতে দিত না। বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। দেশে পরিবারের সঙ্গেও তাকে কথা বলতে দেওয়া হতো না। নির্যাতনের কারণে তার একটি চোখ নষ্ট হতে চলেছে।