লাতিন আমেরিকায় ফের অস্থিরতা|179861|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
লাতিন আমেরিকায় ফের অস্থিরতা
রূপান্তর ডেস্ক

লাতিন আমেরিকায় ফের অস্থিরতা

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ফের অস্থিরতার আগুন লাগতে শুরু করেছে। বলিভিয়া, চিলি, ইকুয়েডর, হাইতি থেকে অন্য দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। ইস্যু ভিন্ন হলেও এর মধ্যে একটি সাধারণ ঐক্য রয়েছে, তা হলো সরকার বদলের ডাক।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে চিলি প্রথম ওইসিডিতে ২০১০ সালে যোগ দেয়। চলতি মাসে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক করপোরেশন (এপিইসি) ও আগামী মাসে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ২৫-এর আয়োজক দেশ চিলি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ যখন লাতিন আমেরিকার স্থায়িত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে পড়ছিল, ঠিক তখনই অক্টোবরের ১৮ তারিখ অশান্তির শুরু হয়। সাবওয়ের ভাড়া বৃদ্ধির আন্দোলন খুব জলদিই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। অবস্থা সামলাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে রাস্তায় সেনা মোতায়েন করা হয়। এমন পদক্ষেপ বিক্ষোভ দমাতে পারেনি। উল্টো চিলিকে এপিইসি ও কপ২৫ সম্মেলনের আয়োজন বাতিল করতে হয়। ওই একই সময়ে বলিভিয়া, হাইতি ও ইকুয়েডরেও অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়।

ছয় মাস আগে মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে হাইতির জনগণ। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি প্রশ্নে সৃষ্ট জটিলতায় গত ছয় মাসে হাইতিতে বিক্ষোভে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়। প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসের পদত্যাগের দাবি ওঠে। দেশটিতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৬০ লাখ মানুষ বাস করছে। এদের মধ্যে ২৫ লাখ মানুষ চূড়ান্ত দরিদ্র, যাদের দৈনিক মাত্র ১ দশমিক ২৩ ডলারের ওপর জীবন নির্বাহ করতে হয়।

ইকুয়েডরেও জ্বালানি ভর্তুকিকে কেন্দ্র করে অসন্তোষের শুরু। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেশটির পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত সাতজনের মৃত্যু ও সহস্রাধিক আহত হওয়ার পর সরকারকে বাধ্য হয়ে আপসের রাস্তায় হাঁটতে হয়। সরকার জ্বালানি ভর্তুকি রহিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেও দেশটির আদিবাসীদের গ্রুপ সিওএনএআইই সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখে।

বলিভিয়ায় সম্প্রতি নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতা ঘিরে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে রাস্তায় নামে দেশটির বিপুলসংখ্যক জনগণ।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি, হিসাবহীন রাজনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক ধনিক শ্রেণি, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারি নীতিনির্ধারণের সংঘাতের শুরু ২০০০ সাল থেকেই। লাতিন আমেরিকার সরকারগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাল দিতে রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হওয়ার অবস্থায়।