‘বিলুপ্তির’ ৩০ বছর পর ইঁদুরের মতো হরিণ|180174|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
‘বিলুপ্তির’ ৩০ বছর পর ইঁদুরের মতো হরিণ
প্রতিদিন ডেস্ক

‘বিলুপ্তির’ ৩০ বছর পর ইঁদুরের মতো হরিণ

ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের ঘন বনাঞ্চল থেকে সম্প্রতি ছোট হরিণের মতো দেখতে খরগোশের আয়তনের একটি প্রাণীর ছবি তোলা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর আগেই ওই শেভ্রোটেইন নামের ওই প্রাণীটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। গত সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ইকোলজি অ্যান্ড ইভু¨লিউশন-এ ওই ছবি ও শেভ্রোটেইন সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

ভিয়েতনামের স্থানীয়রা প্রাণীটিকে ‘ভিয়েতনামি ইঁদুর হরিণ’ নামে চেনে। পঁচিশ বছর আগে ভিয়েতনাম ও রাশিয়ার একদল গবেষক এক শিকারির কাছ থেকে শেষ শেভ্রোটেইনের দেহ পেয়েছিলেন। এরপর আর কোথাও এই প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে শেভ্রোটেইন শুধু মানুষের কল্পনার জগতেই ছিল।

গেস্নাবাল ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশনের (জিডবিস্নউসি) ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ২৫টি হারানো প্রজাতির মধ্যে এই প্রাণী একটি। সংস্থাটির মতে, বসবাসের জায়গা সংকট ও অবৈধ শিকারিদের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায় শেভ্রোটেইন প্রজাতি।

ভিয়েতনামের দক্ষিণের নাহ ত্রাং শহরের সমুদ্রসৈকতের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিজ্ঞানীরা বনাঞ্চলে গত পাঁচ মাস ধরে ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করেন। একই এলাকার মধ্যে ২৯টি ক্যামেরা বসানো হয়। এই ক্যামেরাগুলোতে পাঁচ মাসে মোট ১ হাজার ৮৮১ বার শেভ্রোটেইনের ছবি ধরা পড়ে। ১৯১০ সালের দিকে বিজ্ঞানীরা প্রথম শেভ্রোটেইন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তখন নাহ ত্রাং এলাকা থেকে চারটি নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত প্রাণীটির কোনো দেখা পাননি বিজ্ঞানীরা। তখন মধ্য ভিয়েতনামে একজন স্থানীয় শিকারির কাছ থেকে একটি শেভ্রোটেইন জব্দ করা হয়।

জিডবিস্নউসির কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু তিলকারের মতে, ‘প্রাণীটি সম্পর্কে কেন খুব বেশি কিছু জানা যায় না তা বিরাট প্রশ্ন। আমরা দুটি ঐতিহাসিক স্থান শনাক্ত করেছি। একটি স্থান ভিয়েতনামের দক্ষিণে ও অন্যটি উত্তরে। অনেকেই ওই স্থানগুলোর বনাঞ্চলে ক্যামেরা পেতে রেখেও শেভ্রোটেইনদের দেখা পায়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নেই বনাঞ্চলের শুষ্ক অংশ যেখানে খুব বেশি মানুষের চলাচল নেই, তেমন একটি জায়গায় ক্যামেরা বসাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা প্রাণীটি সম্পর্কে জানত। স্থানীয় পরিবেশগত জ্ঞান দিয়ে তারা বিষয়টি জানত।’ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় শেভ্রোটেইনের ছবি পাওয়া গেছে বলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে, শেভ্রোটেইন হুমকির মধ্যে নেই।