‘চাকরি যখন ছাড়তে পেরেছি, তখন কিসের ভয়’|180205|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:২৩
‘চাকরি যখন ছাড়তে পেরেছি, তখন কিসের ভয়’
অনলাইন ডেস্ক

‘চাকরি যখন ছাড়তে পেরেছি, তখন কিসের ভয়’

জম্মু-কাশ্মীরে অবরোধের প্রতিবাদে ভারতের সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়া সেই কর্মকর্তা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিলেও কন্নন গোপীনাথন নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

ভয় পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে একটি ভারতীয় পত্রিকাকে কন্নন বলেন, ‘চাকরিটাই যখন ছাড়তে পেরেছি, তখন কিসের ভয়। আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি হয়েছে। পদোন্নতি আটকে যাবে বা বেতন বাড়বে না এ সব ভয় তো নেই। এখন আমি স্বাধীন মানুষ।’

বুধবার কাশ্মীরে অচলাবস্থার ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় দাদরা-নগর হাভেলিতে কর্মরত ছিলেন কন্নন। তার চিঠি অবশ্য গৃহীত হয়নি এখনও।

কিন্তু প্রশাসনের অংশ হয়ে কেন মানুষের জন্য কিছু করা গেল না? কন্নন বললেন, ‘ইস্তফা দিয়ে মানবাধিকারের কথা বলছি, তাতে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি হচ্ছে। চাকরি বাঁচিয়ে রেখে মানুষের জন্য কিছু করতে পারতাম?’

এখন ভাড়াবাড়িতে থাকেন। বাসে-ট্যাক্সিতে যাতায়াত। মানিয়ে নিতে পারছেন ‘প্রাক্তন’ আমলা? কন্নন বলেন, ‘পরিবারের অসম্ভব সাহায্য রয়েছে। বিশেষত স্ত্রীর। তাই এক মুহূর্তে চাকরি ছাড়তে পেরেছিলাম। এখন চলছে সঞ্চয়ের টাকায়। তিনটা ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙেছি। জানি, বিকল্প উপার্জনের কথা ভাবতে হবে।’

৩৩ বছরের কন্ননের বেড়ে ওঠা কেরালার মাটিতে। সেখানকার সংস্কৃতি তার ভাবনা-চিন্তার পরিসরকে ব্যাপ্ত করেছে, এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে কন্নন কলকাতা যাচ্ছেন ১৫ নভেম্বর। বাংলার মানুষকেও তিনি বোঝাতে চান, শরীরের কোনও অংশ কেটে গেলে গোটা দেহেই যন্ত্রণা হয়।

‘৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করা ঠিক না ভুল, তা নিয়ে আলোচনা হোক। আমার আপত্তি প্রক্রিয়াটা নিয়ে। যে সরকার জীবন আর স্বাধীনতার মধ্যে যে কোনও একটাকে বেছে নিতে বলে, যারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় নিরাপত্তার জন্য মানুষকে গৃহবন্দি করে রাখতে হচ্ছে সে সরকার অপদার্থ। তার দ্রুত গদি ছেড়ে দেওয়া উচিত।’