আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই: ওবায়দুল কাদের|180258|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪১
আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই: ওবায়দুল কাদের
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই: ওবায়দুল কাদের

গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগীদার হবে না উল্লেখ করে যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই। দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সেই পরিবর্তন চাই না যে পরিবর্তন আওয়ামী লীগকে আদর্শের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শিকড়ের সঙ্গে আদর্শ বিস্তৃত’।

তিনি বলেন, ‘ট্র্যাডিশনের সঙ্গে টেকনোলজির সমন্বয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। ট্র্যাডিশন চাই, সেটা হচ্ছে সিনিয়ররা জুনিয়রদের স্নেহ করবে, জুনিয়ররা সিনিয়রকে সম্মান করবে। এখানে আমরা ডিজিটাল চাই না’।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে যারা কাজ করবে তাদের চরিত্র হারালে চলবে না’।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন তুচ্ছ কারণে অবাঞ্ছিত, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তখন মনে বড় কষ্ট লাগে, বড় দুঃখ পাই। সামান্য কারণে একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু, কষ্ট লাগে, দুঃখ পাই। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যে কলহ দেখি, এটাই চট্টগ্রামের বড় দুর্বলতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা অন্তঃকলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা করবে; সেসব অপকর্মকারীদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। গোটা আওয়ামী লীগের ভালো লোকদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।’

প্রয়াত প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শুধু ব্যবসা করলে আখতারুজ্জামান বাবু দেশের এক নম্বর ধনী হতেন। কিন্তু রাজনীতিকে তিনি ‘মানি মেকিং মেশিন’ করেননি। তিনি জনগণের পাশে থেকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো রাজনীতি করেছেন। কিন্তু আজ অনেকে রাজনীতিকে কেনাবেচার পণ্য মনে করে। বাবু ভাই ও মহিউদ্দিন চৌধুরী জনগণকে ভালোবাসতেন বলেই মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।’

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দলের দুঃসময়ে বাবু ভাই চট্টগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবু ভাই। যারা এখন রাজনীতিকে অর্থ দিয়ে কিনতে চায়, তাদের বলব-বাবু ভাইয়ের জীবনী থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিত্তবান হয়েও তিনি রাজনীতিকে কেনার চেষ্টার করেননি। বাবু ভাই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে বেইমানি করেননি বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

ভূমিমন্ত্রী ও আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, আমার বাবা এখনো মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন। এটাই বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জন্য। পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগ করার মানুষ পাওয়া যায়নি। আজ অনেকে দল করতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র থেমে নেই। তারা চায় আমাদের ধ্বংস করতে। তাই নেতাকর্মীদের আরও অনেক সজাগ হতে হবে।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন আখতারুজ্জামান বাবু। তিনি কখনো আস্থা হারাননি। ৭৫ পরবর্তী সময়ে অনেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি দল ছেড়ে যাননি। তিনি একজন প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতা ছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বাবু ভাই বিত্তবান হয়েও সকল নেতাকর্মীকে আপন করে নিতেন। বিত্তবানরা এখন দলকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করতে চান। ওনার কাছে থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।