নির্বাসিতের নিরাপদ জমিন|180312|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
নির্বাসিতের নিরাপদ জমিন
ট্রটস্কি, বুনুয়েলের পর মোরালেস
রূপান্তর ডেস্ক

নির্বাসিতের নিরাপদ জমিন

লিওন ট্রটস্কি, লুইস বুনুয়েল থেকে সালভাদর অ্যালেনডের বিধবা স্ত্রী হর্টেনসিয়া বুসি একঝাঁক নির্বাসিত নেতা। জন্মভূমি ইউক্রেন, স্পেন ও চিলি তাদের আশ্রয় দেয়নি। কিন্তু তাদের জন্য বুকে পেতে দিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির রাজনৈতিক আশ্রয়ের ঐতিহ্যে সর্বশেষ যুক্ত হলেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস।

বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, স্পেনে ফ্রান্সিসকো ফ্রানকোর আমলে গৃহযুদ্ধে পালিয়ে যান বহু রিপাবলিকান। ১৯৭০ সালে সামরিক একনায়কতন্ত্রের অত্যাচারে আর্জেন্টাইন, চিলিয়ান কিংবা ব্রাজিলিয়ান, হাজারো পলাতক রাজনীতিক আশ্রয় চাওয়ামাত্র স্বাগত জানায় মেক্সিকো। চতুর্থবার নির্বাচনে বিজয়ী হলেও, গণআন্দোলনে প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস পদত্যাগ করেন। বিপদ বুঝতে পেরে তিনি গত মঙ্গলবার মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। গর্বিত মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাদোর বলেন, ‘সরকারের প্রধান হিসেবে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে পেরে আমি খুবই গর্বিত।’ বলিভিয়ার স্ফুলিঙ্গ থেকে মেক্সিকো বিমান পাঠানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোরালেস বলেন, ‘মেক্সিকো আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে।’

১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র নিকারাগুয়ার দখল নিলে, দেশটির বিপ্লবী নেতা সিজার অগাস্টো সানদিনোকে প্রথম রাজনৈতিক আশ্রয় দেন অবসরপ্রাপ্ত মেক্সিকান কূটনীতিক অগাস্টিন গুতেরেস ক্যানেট। যদিও ১০ বছর পর সহায়তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন সানদিনো। এর ঠিক সাত বছর পর রাজনৈতিক আশ্রয় পান ট্রটস্কি। ১৯২৯ সালে জোসেফ স্টালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে নির্বাসিত হয়ে এই মার্কস বিপ্লবী তুরস্ক হয়ে নরওয়ে; এরপর ফ্রান্স থেকে ১৯৩৭ সালে পা রাখেন মেক্সিকোয়। কিন্তু ১৯৪০ সালে সেখানে সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থার স্প্যানিশ কমিউনিস্ট র‌্যামন মারকেদার তাকে হত্যা করেন। শুধু প্রেসিডেন্ট লাজেরো কার্ডেনাসের আমলে (১৯৩৪-৪০) ২০ হাজার স্প্যানিশ মেক্সিকোয় আশ্রয় নেয়। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল। এ সময়ে বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও ফিদেল ক্যাস্ত্রোর বন্ধু কবি লিওন ফেলিপ কিউবা থেকে মেক্সিকো আসেন। সেখানে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা লুইস বুনুয়েলের সঙ্গে কিউবান বিপ্লব গড়ে তোলেন। এক সময়ের রিপাবলিকান এ গুপ্তচর ১৯৪৬ সালে মেক্সিকোর নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ধ্রুপদী ‘দি ইয়ং অ্যান্ড দি ড্যামনড’ সিনেমা নির্মাণ করে খ্যাতি কুড়ান।

১৯৭০ সালে লাতিন আমেরিকার বর্বর স্বৈরতন্ত্রের সময়ে বহু মানুষ মেক্সিকোয় আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে চিলির প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট অ্যালেনডের স্ত্রী বুসি সান্তিয়াগোতে মেক্সিকান দূতাবাসে ওঠেন। ১৯৭৩ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর স্বামী মারা গেলে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এসবের বাইরেও মেক্সিকো ১৯৮০ সালে সেন্ট্রাল আমেরিকায় যুদ্ধ শুরু হলে গুয়েতেমালার আদিবাসী নেতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী রিগোবার্তা মেনচুকে আশ্রয় দেয়।

রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য থাকলেও মোরালেসকে নিয়ে মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট লোপেজ অব্রাদোর রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি ভালোভাবে নেননি। আগে থেকেই মেক্সিকোর সঙ্গে তার ‘উষ্ণ-শীতল’ সম্পর্ক। মেক্সিকোর বিরোধী দল প্যান’র সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিসেন্তে ফক্স টুইট করেছেন, ‘মোরালেস স্বৈরাচার। অথচ এখন মেক্সিকোয় তিনি পারসোনা নন গ্রাটা।’ অবশ্য কূটনীতিক গুতেরেস মনে করেন, মোরালেসের আশ্রয়ে আদর্শিক দিক দেখা হয়নি। আন্তর্জাতিক নীতিতে বিপদাপন্নকে রক্ষায় মেক্সিকো অঙ্গীকারাবদ্ধ।