বড় পর্দায় দুর্ধর্ষ তিন তারকা|180335|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
বড় পর্দায় দুর্ধর্ষ তিন তারকা
ওয়াহিদ সুজন

বড় পর্দায় দুর্ধর্ষ তিন তারকা

১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল টিভি সিরিজ ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’। রহস্যের পাশাপাশি তিন নারী গোয়েন্দার চোখধাঁধানো গ্ল্যামার ও অ্যাকশনে বুঁদ ছিল দর্শক। ক্যামেরন ডিয়াজ, ড্রিউ ব্যারিমোর ও লুসি লিউর মতো নামি তারকাদের নিয়ে ২০০০ ও ২০০৩ সালে সিরিজটি উঠে আসে বড় পর্দায়। ২০১১ সালে আবারও টেলিভিশনে ফেরার কথা শোনা যায়। সেই পরিকল্পনা বাতিল করে আগামীকাল শুক্রবার বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এলিজাবেথ ব্যাঙ্কসের পরিচালনায় এবার নাম ভূমিকায় আছেন হালের তিন ক্রেজ ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, নওমি স্কট ও এলা বালিন্সকা। তিন নায়িকাকে দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী চলমান সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায়। জুলাইয়ে ট্রেইলার প্রকাশ হতেই শোরগোল ওঠে। আলোচনা শুরু হয়, অ্যাকশন দৃশ্যে তিন নায়িকা নিজেদের প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ‘টোয়ালাইট’ ও ‘স্নো হোয়াইট’ সিরিজের পর ভিন্নরূপে নতুন সিরিজে ফিরলেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তার চরিত্রের নাম সাবিনা উইলসন। ট্রেইলারে একজন ধনী ব্যবসায়ীকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নারীরা যেকোনো কিছু করতে পারে।’ আসলেই তাই! ফ্রি হ্যান্ড অ্যাকশন, কার রেস কী নেই! নায়িকারা ভেসেছেন স্কাইডাইভেও।

আগের দুই ছবিতে ‘বসলে’ হিসেবে পরিচিতি অ্যাঞ্জেলদের একজন করে পরামর্শক দেখা গেছে। নতুনটিতে একাধিক বসলে আছেন। যাদের একজন পরিচালক ব্যাঙ্কস নিজেই। তার মতে, সনাতনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সবকিছু সামাল দিতে পারছে না। তাই ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’দের মতো এজেন্ট দরকার পড়ছে। একাধিক বসলেকে ধরা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। এ ছাড়া আগের দুই সিনেমায় নায়িকাদের ফ্রি হ্যান্ড মারপিটে দেখা গেছে। বিশেষ করে মার্শাল আর্টে তারা দক্ষতা দেখিয়েছেন। এবার ক্রিস্টেন, নওমি ও এলার হাতে উঠে এসেছে পিস্তল। আর এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত আছেন ড্রিউ ব্যারিমোর। আগের সিনেমার মতো নির্বাহী প্রযোজকের ভূমিকা তার।

টেলিভিশন সিরিজ বাতিলের পর অনেক দিন ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ নিয়ে কথা হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সনি পিকচার্স সিনেমাটির রিবুটের ঘোষণা দেয়। পরের মাসেই পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক হিসেবে টিমে যুক্ত হন এলিজাবেথ ব্যাঙ্কস। ঠিক তিন বছর পর শুরু হয় দৃশ্যায়ন। জার্মানি ও তুরস্কের দারুণ কিছু লোকেশনে শ্যুটিং হয়। ওই সময় ব্যাঙ্কস জানান, এটি আসলে রিবুট নয়। বরং আগের গল্পেরই ধারাবাহিকতা। এলিজাবেথ বলেন, ‘সত্তরের দশকে চার্লিস অ্যাঞ্জেলস টিভি সিরিজ দেখে শিখেছিলামÑ নারী চরিত্রকেও ক্ষমতা ও শক্তির উৎস হিসেবে দেখানো যেতে পারে। আমি খুব রোমাঞ্চিত নতুন চার্লিস অ্যাঞ্জেলসের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে। ক্রিস্টেন, নওমি ও এলার সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর হয়ে আছি।’

এরই মধ্যে সমালোচকরা ছবিটি নিয়ে লেখা শুরু করেছেন। তাদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। যেমন হলিউড রিপোর্টারে বলা হয়েছে, পুরনো চরিত্রগুলো সতেজভাবে ফেরত এসেছে। নারীবাদী ঝা-া তুলে ধরেছে তারা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশগত সংকটকে গল্পে তুলে আনা হয়েছে। আগের সিনেমার মতো অপ্রয়োজনীয় বয়ফ্রেন্ড নেই। বরং গল্পকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে চরিত্রগুলো। তাই নারীত্ব ও যৌনতার প্রকাশ চরিত্রগুলোকে গভীরতা দিয়েছে। প্রথাগতভাবে সিনেমার মতো পণ্য হয়ে ওঠেননি নায়িকারা। যেমন ২০০০ সালে ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’-এ ক্যামেরন ডিয়াজকে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে কোনো কারণ ছাড়াই শুধু অন্তর্বাস পরে নাচতে দেখা যায়। তবে খুব একটা ব্যতিক্রম দেখছেন না অনেকে। তাদের মতে, সিনেমাটি বরং হলিউডের বাণিজ্যিক নারীবাদ ও প্রথাগত সহিংসতার সংমিশ্রণ। এসব সত্ত্বেও আলাদা রাজনীতি তুলে ধরেছে। সেই কারণে অনেককে সন্তুষ্ট করবে। কোনো কোনো সমালোচকের মতে, কমেডি ও অ্যাকশনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সেটা সম্ভবও হয়েছে। বিনিময়ে কী যেন কমতি পড়েছে। এ কারণে কমেডি বা অ্যাকশন খুব বেশি অভিভূত করে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিত্রনাট্য জমে ওঠেনি। যাই হোক, এইসব সমালোচকদের কথা। দর্শকদের রায় ভিন্নও হতে পারে। দেখা যাক, ৪৮ মিলিয়ন ডলারের ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ টিকেট কাউন্টারে কতটা ঝড় তোলে।