মোস্তাফিজ আমাদের জন্য হুমকি-কোহলি|180408|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মোস্তাফিজ আমাদের জন্য হুমকি-কোহলি
মোহাম্মদ খাইরুল আমিন, ইন্দোর থেকে

মোস্তাফিজ আমাদের জন্য হুমকি-কোহলি

পরের দিন (আজ) সিরিজের প্রথম টেস্ট। আগের দিন দুপুরে ইন্দোরের সংবাদ সম্মেলনে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। পেস-স্পিন-ব্যাটিং-বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল। সবাই ফর্মে। এমন দলের অধিনায়কের আর কী চাওয়া থাকতে পারে! প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে এই ম্যাচ দিয়ে। কিন্তু কোহলি ভাবছেন নিজেদের নিয়ে। প্রশ্নোত্তরে উঠে আসা নানা কথার চুম্বক অংশ ‘দেশ রূপান্তর’-এর পাঠকের জন্য ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়াম থেকে তুলে ধরেছেন মোহাম্মদ খাইরুল আমিন

গোলাপি বলে টেস্ট খেলার রোমাঞ্চ কেমন অনুভব করছেন?

বিরাট কোহলি: এটা বেশ রোমাঞ্চকর। আমার মতে টেস্ট ক্রিকেটে রোমাঞ্চ টেনে আনার নতুন এক উপায় এটি। গতকাল (মঙ্গলবার) আমি গোলাপি বল খেললাম। মনে হলো লাল বলের তুলনায় বেশ সুইং করে। গায়ে বাড়তি এক আবরণের কারণে বল খুব দ্রুত যায় না। সিম জায়গায় থাকে। আমার মতে, উইকেটে বাড়তি সহায়তা থাকলে এই বলে খেলাটা বোলারদেরই হবে। বিশেষ করে গোটা টেস্ট ফাস্ট বোলারদের হতে পারে। শিশিরের কারণে ও আবরণ উঠে যাওয়ার পর পুরনো বল কেমন আচরণ করে তা জানি না। সেটা কেমন হয় দেখতে মজা লাগবে। পিচে পড়ে গোলাপি বলে জীবন পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

দিবারাত্রির টেস্ট মাথায় রেখে এই ম্যাচের জন্য তৈরি হতে ঝামেলা হয়নি?

বিরাট কোহলি: টেস্ট ক্রিকেটে এক সেশন বা এক ওভার থেকেও আপনি মনোযোগ সরিয়ে ফেলতে পারবেন না। প্রত্যেক খেলায়, প্রত্যেক বলে, প্রতিটি পরিস্থিতিতে বলের দিকে ফোকাস রাখতে হয়। আমাদের আসল ফোকাস আগামীকালের (আজ) টেস্ট ম্যাচে। গোলাপি বলের টেস্ট এলে তা রোমাঞ্চকর হবে। প্রত্যেক টেস্টের আগে বিশেষ করে সকালে টসে যাওয়ার আগে বাতাসে উত্তেজনা উড়ে বেড়ায়। এই অনুভূতি সবার আছে। এদিকে আমাদের চোখ আগে। গোলাপি বলে পরে মন দেব।

লাল বলে খেলার দুদিন আগে এখানে নেটে গোলাপি বলে প্র্যাকটিসের কারণ?

বিরাট কোহলি: আগে গোলাপি বলে আমি খেলিনি। আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমিও চেয়েছিলাম যাতে গোলাপি বলে খেলার দিকেও মনটা নিতে পারি। সবাই তেমন করেছে বলে মনে হয়। লাল বলে খেলতে খেলতে হঠাৎ করে এমন অবস্থায় আসলে গোলাপি বলের দিকে একটু বাড়তি মনোযোগ দিতেই হতো। রিফ্লেক্স নিয়েও কাজ করার ছিল। নেটে লাল বল খেলতে খেলতে গোলাপি বল চলে এলে ওটা খেলতে একটু কঠিন লাগে। খেলায়ও এমন পরিস্থিতি হতে পারে। এতে করে ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা যায়। গোলাপি বল শুরুতে খেলা কঠিন হবে তাও বুঝে আসে। আসলে এসব বোঝার জন্যই ওই কাজ।

ভারত বাঁহাতি পেসারের বিপক্ষে কিছুটা ভোগে। মোস্তাফিজুর রহমান এই টেস্টে ভারতের জন্য হুমকি কি?

বিরাট কোহলি: হ্যাঁ, সে খুব ভালো বোলার। তার বিপক্ষে আমরা বেশ খেলেছি। কিন্তু লাল বলে আমার চোখে যেকোনো বাঁহাতি পেসার একটু ভিন্ন ধরনের বোলার। এমনটা খেলতে আমরা খুব অভ্যস্ত নই। তাই নিয়মিত খেলি না এবং আমাদের দলে নেই বলেই বাঁহাতি পেসারের দিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া দরকার পড়বে। সেই হিসেবে এটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে চাইব। এমন নয় যে বাঁহাতি সিমারের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ব। তবে এটা ঠিক, এমন বোলিং একটু কঠিন হয়। নিয়মিত খেলা হয় না বলেই। সুতরাং, সে একটা হুমকি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সে। অভিজ্ঞ বোলার এবং আইপিএলে খেলার সূত্রে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ ভালো করে জানে। কিন্তু আমরাও তার বিপক্ষে অনেক খেলেছি। আমাদের কাজ তাই একজন ভালো বোলারের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং তার ওপর কর্তৃত্ব করা।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের এক নম্বর দল ভারত। তারপরও কীভাবে আত্মতুষ্টি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব?

বিরাট কোহলি: সোজা তো। খেলাটাকে পুরো শ্রদ্ধা করতে হয়। যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি না কেন সেখানে মানসিকতা ও সম্মান দেখানোয় পরিবর্তন আনার উপায় নেই। তরুণদের একটা গ্রুপকে যখন শীর্ষে তোলার চেষ্টা থাকে তখন তা অর্জন করে ফেললে গোটা পথের গুরুত্ব ও কঠোর পরিশ্রমটা অনুভব করা যায়। অতীতে খুব কম মানুষই এই ১ নম্বর দলের হতে পেরেছে। আমরা ২০১৪-১৫ থেকে টেস্টের এই ১ নম্বর জায়গাটিতে দলকে রাখার প্রয়াসে আছি। এই প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অনেক ভালোবাসা। ভালোবাসা তাই যেভাবে টেস্ট খেলি তার জন্য। ৪-৫ বছরে ভারতের ক্রিকেটকে ১ নম্বরে আনতে কত কষ্ট হয়েছে তা আমরা প্রত্যেকে বুঝতে পারি। আত্মতুষ্টির তাই সুযোগ নেই।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

বিরাট কোহলি: নিজেদের মান ঠিক জায়গায় ধরে রাখা এবং তেমন ক্রিকেট আবার খেলা বড় চ্যালেঞ্জ। দলের সবার মনে এটা আছে বলেই মানি। নিজেদের তুলে ধরে পারফর্ম করতে ওরা ক্ষুধার্ত।

ইন্দোরেও নিশ্চয় জিতবেন।

বিরাট কোহলি: জেতার কোনো গ্যারান্টি নেই। এজন্য আমাদের ভালো খেলতে হবে। কেবল মাঠে নামলেই জেতা যায় না। সহজ হবে না। ইন্দোরে আমরা সব সময় ভালো খেলেছি। কিন্তু যখনই খেলুন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং খেলাটাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। এই দলে আমাদের অনেক সুখস্মৃতি।

ভারতের বর্তমান পেস আক্রমণ কি সব সময়ের সেরা?

বিরাট কোহলি: আমার কাছে জানতে চাইলে বলি আমরা একেবারে শীর্ষে। শীর্ষ তিনেও না। এই বোলারদের তা প্রাপ্য। অধিনায়ক হিসেবে শুরু করার সময় আমি এমনই চেয়েছিলাম। ব্যাটিং বা স্পিন আমাদের ইস্যু ছিল না কখনো। জহির খান ও অন্যরা চলে গেলে কীভাবে শীর্ষে যাব তাই ভাবতাম। ২০ উইকেট শিকারের আগুনের কথা ভাবতাম। আমাদের বিশ্বাস ছিল। বোলাররা বিশ্বাস করত প্রতিপক্ষের চেয়ে পিচকে তারা বেশি কাজে লাগাতে পারবে। এই বিশ্বাস ব্যবধান গড়ে। এটাই ফাস্ট বোলারদের সম্পদ। এর চেয়ে বেশি খুশি তাদের নিয়ে হতে পারতাম না। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যখনই মাঠে নামে তখন আগের চেয়ে আরও বেশি ক্ষুধা নিয়ে নামে।