স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম কোথাও নয় |180611|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
হাইকোর্টের আদেশ
স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম কোথাও নয়
পরিবর্তন হচ্ছে ৫ কলেজের নাম
নিজস্ব প্রতিবেদক ও গাজীপুর প্রতিনিধি

 স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম কোথাও নয়

স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও সড়ক থাকতে পারবে না, ৯০ দিনের মধ্যে তা বদলে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্থানীয় সরকার সচিব ও শিক্ষা সচিবকে এ নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। হাইকোর্টের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে সারা দেশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, সড়কের

নামকরণ বাতিল চেয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৪ মে এক আদেশে স্বাধীনতাবিরোধী খান এ সবুর ও শাহ আজিজুর রহমানের নামে থাকা সড়ক ও মিলনায়তনের নাম পরিবর্তনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা সড়ক, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং ওই সব স্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার কেন করা হবে নাÑ এ মর্মে রুল জারির পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী অন্যদের নামে কোন কোন স্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো রয়েছে তা জানাতে বলে আদালত।

হাইকোর্টের ওই আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন হয়নি উল্লেখ করে ২০১৫ সালের আগস্টে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। এর ওপর শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে সারা দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, সড়কের তালিকা জানতে চায়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে রাশেদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। স্থানীয় সরকার সচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আশরাফুল আলম। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে সারা দেশে ৩০টি স্থাপনা, সড়কের নামফলক ছিল। এর মধ্যে ২২টিতে পরিবর্তন করা হলেও ৮টি এখনো পরিবর্তন করা হয়নি।

রিটকারীর আইনজীবী এ কে রাশেদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনে জানায়, তাদের অধীনে যেসব স্থাপনা ও সড়ক রয়েছে, সেগুলোতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলা হলেও অন্য সংস্থার স্থাপনাগুলোতে সেটি পুরোপুরি করা হয়নি। আদালত আজ (গতকাল) আদেশে জানায়, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো থেকে স্বাধীতাবিরোধীদের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি সংশ্লিষ্টরা এটি বাস্তবায়ন না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাইতে আমাকে বলেছে হাইকোর্ট।’

আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম বদলের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আরও চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট যুদ্ধাপরাধীদের নামে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের যে রায় দিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম জানান, যে কলেজটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে সেটি হচ্ছে রাঙ্গামাটির রাবেতা মডেল কলেজ। এই কলেজের পরিবর্তিত নাম লংগদু মডেল কলেজ। আর যে চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে হবিগঞ্জের মাধবপুরের সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজ, এর পরিবর্তিত নাম মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজ। কক্সবাজারের ঈদগাও ফরিদ আহমেদ কলেজ, পরিবর্তিত নাম ঈদগাও রশিদ আহমেদ কলেজ। টাঙ্গাইলের বাশাইল এমদাদ হামিদা কলেজ, পরিবর্তিত নাম বাশাইল ডিগ্রি কলেজ। গাইবান্ধার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার কলেজ, পরিবর্তিত নাম ধর্মপুর ডিগ্রি কলেজ।