ট্রেন দুর্ঘটনা ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা হবে|180612|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী
ট্রেন দুর্ঘটনা ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেন দুর্ঘটনা ষড়যন্ত্র কি না খতিয়ে দেখা হবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এই পেঁয়াজ চলে এলে টিসিবির মাধ্যমে তা জেলায় জেলায় পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো দুরভিসন্ধি বা চক্রান্ত রয়েছে কি না তা তদন্ত করা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব। আমরা দেখি এ ধরনের ঘটনার

 

পরপরই আরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। কেন ঘটে তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।’

বিএনপি আমলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশের রেল যোগাযোগটা প্রায় বন্ধই করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমরা সেটাকে পুরুজ্জীবিত করেছি।’

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের কেজি ৮-১০ টাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি মাত্র একটি রাজ্যে। তারা অন্য কোথাও পেঁয়াজ যেতে দিচ্ছে না বলেই কম দাম। আর ভারতবর্ষে পেঁয়াজ বর্তমানে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাদেরই পেঁয়াজের অভাব। তারা বিদেশ থেকে আমদানি করছে।’

দেশের পেঁয়াজ পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে পেঁয়াজ কিন্তু আছে। দেখা যাচ্ছে, পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, কিন্তু বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। দাম বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজ পাঠিয়েছি, ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসছি। প্রায় ৫০ হাজার টনের এলসি খোলা হয়ে গেছে। সেখানে লোকও চলে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে চলে আসবে। আমি নির্দেশ দিয়েছি, এগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গেই টিসিবি সেটা নিয়ে নেবে, সব জেলায় জেলায় ট্রাকে করে এই পেঁয়াজ চলে যাবে। সেই আয়োজন আমরা করে ফেলেছি। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন আছি; যাতে এই সমস্যাটা না হয়।’

খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘আসলে যতই বলি, মানুষের চরিত্র বদলায় না। তবে সরকার অভিযান চালাচ্ছে বলেই মানুষ এই ভেজালের বিষয়টি জানতে পারছে। কেবল খাদ্যে কেন, কসমেটিকসহ অনেক কিছু নকল করে ফেলছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং এটা থাকবে।’

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দ্বীপ খোঁজা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পর আমরা আরও একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করব। এজন্য আমরা দক্ষিণে দ্বীপ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমরা দক্ষিণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি করব। কারণ দক্ষিণের জনগণ বেশি বঞ্চিত।’

আন্দোলন করা শিক্ষকদের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষক আছেন। যিনি ভিসি হচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছে কিছু শিক্ষক। একজন ভিসিকে তাড়ানোর পরপর যে ভিসি আসেন, তাকে তাড়াতে আগের ভিসিও যুক্ত হন। একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন ভিসিকে অপমান করে তাড়ানো হলো। কয়েকজন আছেন, অনবরত এই আন্দোলন করেন।’

শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ও এমপিওভুক্তি : শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড আপগ্রেড করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। আর এখন বেতন কিন্তু তারা বেশিই পান। আমরা সরকারে আসার পর যত বেতন বাড়িয়েছি, কোনো সরকার তা পারেনি। প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তারা শর্তগুলো পূরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে এমপিও হয়ে যাবে।’

পাঁচ কার্যদিবসের এ অধিবেশন শুরু হয় গত ৭ নভেম্বর। গতকাল সমাপ্ত এ স্বল্পকালীন অধিবেশনে ৬টি বিলের মধ্যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়েছে। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উত্তর দানের জন্য ৬৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১৭টির উত্তর দেন।