মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই|180915|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই
মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই

বাংলাদেশের বয়স প্রায় পঞ্চাশ হতে চলছে। ইতিমধ্যে নানা শিল্প উদ্যোগে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এর অর্থনীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। দেশটি

কৃষি এবং ট্রেডিংনির্ভরতা থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে অগ্রসরমাণ। বাংলাদেশ জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ একটি দেশ। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের কর্মক্ষম জনগণকে কর্মকুশল দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার অনিবার্যতা মাহেন্দ্রক্ষণে উপনীত। কেননা, ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ সৃজনশীল কর্মক্ষম জনসমষ্টির আওতায় চলে এসেছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট নামে পরিচিত। সনাতন শর্তানুযায়ী ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট মূলত ৩ দশক পর্যন্ত সৃজনশীল এবং উন্নয়ন অভিসারী অভিযাত্রায় থাকে। ইতিমধ্যে তার এক দশকের বেশি সময় চলে গেছে, সামনে আরও দেড় দুই দশক বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে বিদ্যমান কর্মোপযোগীদের উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত করতে না পারলে বা তাদের উপযুক্ত কর্মসম্পাদনে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে কিংবা তাদের জন্য উপযুক্ত কাজ এবং পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে, তারা অলসতায় শয়তানের কর্মশালায় যোগ দিতে পারে কিংবা অকর্মণ্যতায় হতাশায় নিমজ্জিত হতে পারে, যে পরিস্থিতিতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট ডিজাস্টারে পরিণত হতে পারে। কেননা, সমাজে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে গেলে উৎপাদনশীলতায় বা জিডিপিতে তাদের অবদান বঞ্চিত হয় দেশ এবং তারা নিজেরাই নিজেদের, পরিবারের ও দেশের জন্য বোঝা বা বিপদের বা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সেই ক্ষতির ধকল কাটিয়ে উঠতে জাতির জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর সময় এবং এর জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিতে হবে বিশেষ মাশুল।

বিগত ৪৬ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশের জনগণকে বিশেষ করে যুবসমাজকে এখনো পর্যাপ্ত যথাযথ দক্ষ জনসম্পদে বা প্রশিক্ষিত লোকবল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি। যার জন্য এ দেশ থেকে বিদেশে যাচ্ছে অদক্ষ শ্রমিক আর বিদেশের দক্ষ জনবল এ দেশের মধ্য ও উচ্চতর পদগুলোতে বেশি বেতনে নিয়োজিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রচুর বিশ্ববিদ্যালয় সমাপনকারী ডিগ্রিধারী শিক্ষিতের সংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু তাদের দেশের উদীয়মান শিল্পে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগযোগ্য হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের সেই বিখ্যাত চরণের মতো ডধঃবৎ ধিঃবৎ বাবৎুযিবৎব হড়ৎ ধহু ফৎড়ঢ় ঃড় ফৎরহশ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও বাণিজ্য অনুষদের এক গবেষণায় বাংলাদেশি কর্মী এবং ব্যবস্থাপক পর্যায়ের জনসম্পদের মধ্যে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে উৎপাদন কিংবা সেবা খাতে করিতকর্মা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করা বা উপস্থাপন বা তুলে ধরার মতো প্রযোজ্য প্রায়োগিক ভাষা ও জ্ঞানের অভাব। তাদের মধ্যে সৃজনশীল তথা উদ্ভাবনী শক্তি প্রকাশে, প্রয়োগে সংশয়, সংকোচ তথা অপারগতা বিদ্যমান। বাজারজাতকরণে নৈপুণ্য প্রদর্শন, দক্ষতা, আগ্রহ ও তৎপরতায় ঘাটতি। ক্রয়-বিক্রয় পরিচালনায় পরিবেশনে উপস্থাপনে, নেগোসিয়েশনে নিষ্ঠার অভাব। সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়াদি এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং সেসব মোকাবিলা তথা সমাধানের পথ পরিক্রমায় সাহস এবং প্রজ্ঞার অভাব। লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রায়োগিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ উৎপাদন ক্ষেত্রে উদ্যম ও উদ্যোগকে টেকসইকরণে নিষ্ঠার অপ্রতুলতা।

বিভিন্ন পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে যে, বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাব, ক্ষেত্রবিশেষে দুর্বলতা, প্রায়োগিক জ্ঞানের নিম্নগামিতা, প্রশিক্ষণ এবং অধিক শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহের অভাব, সৃজনশীল পৃষ্ঠপোষকতাদানের ঘাটতি বা কমতি রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য উঠতি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কিংবা অধিকতর যোগ্যতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত ও দক্ষ জনবলের যেমন প্রয়োজন, তেমনি টেকসই ও লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগ ও সমন্বয়ে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তার সঙ্গে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকুশলতা। এই প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান কমে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন নতুন যেসব চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে, সেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে তা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত লোকবলের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

এই সহস্রাব্দের শুরু থেকে বলতে গেলে বিশেষ করে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়ন যখন শুরু হয়, তখন থেকে বাংলাদেশে দক্ষ জনবল বা মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়ে নানা উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। দাতা সংস্থার পরামর্শ ও অর্থায়নে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সংস্থা, প্রকল্প, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গৃহীত হলেও দৃশ্যমান দক্ষ জনবল সেভাবে যে গড়ে ওঠেনি, তা বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে কর্মসৃজন, বিদেশে দক্ষ জনবল পাঠানোর এবং এ দেশে বিদেশিদের নিয়োজন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে প্রতিভাত হচ্ছে। বিগত দেড় দশকে বরং দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশসমূহ থেকে ঊর্ধ্ব ও মধ্যমপর্যায় ব্যবস্থাপক, পরামর্শক, সংগঠন ও কর্মীরা এসে বাংলাদেশে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হয়েছেন, ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে প্রত্যাবাসিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে দক্ষের পরিবর্তে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর মাত্রা বেড়েছে। যদিও এই দেড় দশকে দেশে পরীক্ষায় পাসনির্ভর প্রচুর শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছে বা শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে কিন্তু উঠতি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত ও কার্যকর জ্ঞান দিয়ে তাদের নিয়োগ করা যায়নি এই অনুযোগে যে, তারা প্রতিবেশী দেশসমূহের কর্মীদের তুলনায় চটপটে, পটু, প্রায়োগিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া থেকে পেছনে রয়েছে। এরূপ, অদক্ষ অর্ধশিক্ষিত জনসম্পদ বছর বছর তাদের চাকরির বয়স খুইয়ে স্থায়ী বেকারে পরিণত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের যে কর্মসম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে উপযুক্ত দেশীয় লোকবল সংস্থান করা যাচ্ছে না; অথচ সেগুলো বিদেশিদের দ্বারা পূরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টসশিল্প একটি অতি সম্ভাবনাময় শ্রমিকনির্ভর শিল্প। সেখানে মধ্যপর্যায়ের অধিকাংশ ব্যবস্থাপক, পরিচালক, নকশাকার হিসেবে নিয়োজিতরা বিদেশি। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, গার্মেন্টসের বায়াররা প্রতিবেশী দেশে (যারা আমাদের গার্মেন্টসশিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী) বসে সে দেশের লোক নিয়োগ না করলে আমাদের বাজার হারাতে হবেÑ এ ধরনের একটি অঘোষিত হুমকি রয়েছে। এর ফলে দেশি শিক্ষিত বেকারকে কর্মসংস্থানের চাহিদাকরণে টানাপড়েন সৃষ্টি হয় এবং চাকরি না পেয়ে বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণরা হতাশায় নিমজ্জিত। সাম্প্রতিককালে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে সেই হতাশার বেদনা বাঙময় হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে দেশের টেকনিক্যাল শিক্ষার পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকায় দক্ষ জনবল সরবরাহের পরিস্থিতি এমন একটি নেতিবাচক পর্যায়ে যাচ্ছে যে, দীর্ঘ মেয়াদে তাতে এক করুণ ও আত্মঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টারে পরিণত হতে পারে।

জনসম্পদ উন্নয়নে বিদ্যমান এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং উন্নতপর্যায়ে উত্তরণ শুধু জরুরি নয়, অনিবার্যও বটে। এখনই যদি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়, তাহলেও আগামী ১৫ বছরের আগে সেই দক্ষ জনবলের সাক্ষাৎ মিলবে না। তত দিনে বর্তমানে বিদ্যমান বেকার ও অদক্ষ শিক্ষিত জনসম্পদ ওপরে ও নিচের জন্য জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে থাকবে। ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান পর্যায়ে বিদেশিদের নিয়োগ অব্যাহত থাকলে বা রাখলে দেশের চাকরির বাজার দেশীয়দের জন্য আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। এহেন পরিস্থিতি থেকে কার্যকরভাবে পরিত্রাণ পেতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। গালভরা শব্দমাখা, দেশি-বিদেশি কনসালট্যান্ট ও বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে অনুসন্ধান পরীক্ষা পর্যালোচনার পথে থেকেও একটি আত্মনির্ভরশীল পরিস্থিতি সৃজনে নিজেদের ভাবনায় বা উদ্যোগে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারেÑ

১.            দেশের শিক্ষিত জনবলকে দেশে নিয়োগ বা আত্মীকরণ নিশ্চিত করা। বাইরের বায়ারের চাপে, কিংবা বাইরের কর্মীদের স্মার্টনেসের যুক্তিতে তাদের নিয়োগ করা থেকে বিরত থেকে দেশীয়দের নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তথা চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। নিজেরা যদি নিজেদের লোকবল নিয়োগের জন্য ঝঢ়ধপব না রাখি বা পদ সৃষ্টি না করি, তাহলে দেশীয়দের চাহিদা ও দক্ষ জনবল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে না। দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। ২. পেশাজীবী ও শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল তৈরির জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে বিজিএমইএসহ কয়েকটি সংস্থা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট গড়ে তুলছে। কিন্তু সেসবের বাস্তবায়ন বড্ড ধীরগতিসম্পন্ন এবং সেখানে অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ লোকবল তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি, শুরু হলেও ফলাফল মানসম্মত ফলাফল পেতে দেরি হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সময় কারও জন্য বসে থাকবে না। ৩. বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এ মুহূর্তে পড়াশোনা করছে, তাদের ভাষা ও টেকনিক্যাল জ্ঞান, তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ভাবনা গতানুগতিক অবয়বে না রেখে তাদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থাপনাধীনে ভাষাচর্চা ও প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তা না হলে বিদ্যমান শিক্ষার্থীরা শ্রমবাজারে গতানুগতিক অদক্ষ অবস্থায় প্রবেশ করবে। ৪. অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পথ পরিহার করে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যে এবং দেশে দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য আলাদাভাবে বিশেষ তহবিল গঠন করে বিশেষ কার্যক্রম/উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান সব বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রকৃতপক্ষে কী শেখানো হচ্ছে, তা কঠোর তদারকিতে এনে সেখানে গুণগত শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। ৫. অদক্ষের পরিবর্তে দক্ষ জনবল পাঠাতে পারলে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। দেশে দক্ষ জনবল পাওয়া গেলে, বিদেশিদের নিয়োগ বন্ধ হলে ব্যাপক বিদেশি মুদ্রা ব্যয় সাশ্রয় ঘটবে। সরকারকে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এই লাভ-লোকসানের সমীকরণটি যথা বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি মনোযোগী এবং সেখানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে কড়া তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যেসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করবে, তাকে সুলভ করতে কর রেয়াত কিংবা প্রণোদনা দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে। ৬. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ প্রায়োগিক জ্ঞানের পাঠ্যসূচি কার্যক্রম সংযুক্তকরণ। ৭. বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে সচেষ্ট থাকা। অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের ব্যয় যাতে সীমিত থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখা। কেননা, অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে বেশি বেতন পান না অথচ তাদের যেতে যদি বেশি অর্থ ব্যয় হয়, তাহলে তাদের প্রত্যাবাসনের দ্বারা প্রকৃতভাবে অর্থনীতি কোনোভাবেই উপকৃত হবে না। ৯. সাধারণ শিক্ষা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত রেখে সাধারণ শিক্ষা এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রায়োগিক বা বৃত্তিমূলক টেকনিক্যাল শিক্ষার দিকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ধাবিত করা। শুধু উচ্চ মেধাসম্পন্ন ও গবেষণা-ইচ্ছুরা উচ্চশিক্ষাপর্যায়ে যেতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষা পর্যায়ক্রমে নিরুৎসাহিত করা।

লেখক

সরকারের সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান