মসনদে ফিরছেন রাজাপাকসে! |180922|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মসনদে ফিরছেন রাজাপাকসে!
শঙ্কায় তামিল ও মুসলিমরা
রূপান্তর ডেস্ক

মসনদে ফিরছেন রাজাপাকসে!

ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পর গতকাল শনিবার প্রথম শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। আজ দুপুর নাগাদ শ্রীলঙ্কার ভোটের ফলাফল জানা যাবে। এবারের ভোটের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় ফের রাজাপাকসে গোত্র আসতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা।

মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই গোতাবায়া বর্তমানে শ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রন্টের (এসএলপিপি) প্রধান হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) সাজিথ প্রেমাদাসা। সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসার ছেলে তিনি। নির্বাচনে তিনি শ্রীলঙ্কায় উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামের দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে প্যাড বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজরা সমর্থন দিচ্ছে এসএলপিপিকে। ঠিক একই কারণে দুই রাজাপাকসে ভাইকে দেশটির সংখ্যালঘুরা ভয় পায়। কারণ তামিল টাইগার গেরিলা দলকে নিশ্চিহ্ন করার নামে রাজাপাকসের আমলে শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী ৪০ হাজার তামিল বেসামরিককে হত্যা করেছিল।

২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মাহিন্দা রাজাপাকসের সময় গোতাবায়া ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলম (এলটিটিআই) গেরিলাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগও আছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ তার নির্দেশে সাদা ভ্যানে চড়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করত বলে অভিযোগ আছে। নিজের পরিবারেই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ‘টারমিনেটর’ নামে চেনে।

কলম্বোর আলফনসো নামের এক তামিল এএফপিকে বলেন, ‘গোতাবায়া রাজাপাকসে ফিরে এলে সাদা ভ্যানের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। তার বিরুদ্ধে শুধু আমরা নই, কেউ কথা বলতে পারবে না।’

রাজাপাকসের ফিরে আসার সম্ভাবনায় শঙ্কিত দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমরাও। গত এপ্রিলের ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পর এমনিতেই মুসলিমরা বেশ চাপে আছেন। এই গোতাবায়াই ২০০৯ সালপরবর্তী সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ ও মুসলিমদের মধ্যে সংঘাতের সূচনা করেন।

বিশ্লেষক পাইকিয়াসথি সারাভান্নামুত্তু বলেন, ‘বদু বালা সেনার (বৌদ্ধদের কট্টর জাতীয়তাবাদী সংগঠন) অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও সমর্থক গোতাবায়া। এই সংগঠনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধী সহিংসতায় যুক্ত।’

শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় রাজাপাকসের আবির্ভাবকে সহজভাবে নেবে না প্রতিবেশী দেশ ভারত। কারণ মাহিন্দার আমলেই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয় শ্রীলঙ্কা। এর বিনিময়ে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পায় তৎকালীন মাহিন্দা সরকার। রাজাপাকসে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে প্রথমেই ওই ঋণ পাওয়া অর্থের ব্যবহার ও হাম্বানতোতা বন্দর সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, যা চীনের জন্য অস্বস্তিকর হলেও ভারতের জন্য স্বস্তির।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সহকারী গবেষক জেফ স্মিথের মতে, ‘শ্রীলঙ্কায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় অর্থ আদায় করে নেওয়া, বিদেশি শক্তির সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দেওয়ার পেছনে চীন সরকারও দায়ী। গোতাবায়া সম্ভবত তার ভাইয়ের পরিণতি দেখে কিছু শিখে থাকতে পারেন। চীনের প্রতি অত্যধিক নির্ভরশীলতা যে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে তাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে পারে তা হয়তো তিনি জানেন।’

রাজাপাকসেদের তৃতীয় ভাই বাসিল রাজাপাকসে অবশ্য মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের উচিত তাদের আর একবার সুযোগ দেওয়া। বিদেশিরা শ্রীলঙ্কাকে মনিটর করার চেয়ে অংশীদার করলে সবদিক দিয়ে ভালো হবে বলেও তিনি মনে করেন।