অতি উন্নয়নবিরোধী কণ্ঠস্বর |180928|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
অতি উন্নয়নবিরোধী কণ্ঠস্বর
রূপান্তর ডেস্ক

অতি উন্নয়নবিরোধী কণ্ঠস্বর

স্পেন শাসিত হলিডে আইল্যান্ড ল্যানজারোতের রাস্তার পাশে কিংবা বড় দালানে বিলবোর্ড লাগানো নিষেধ। এই দ্বীপেই এক শতক আগে জন্মেছিলেন শিল্পী সিজার ম্যানরিকে। তার জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর ওই উৎসবে যোগ দিয়ে বছরে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটকের সমাগত হয় দ্বীপটিতে।

পাশের দ্বীপটির নাম কোস্টা দেল সোল। পাশাপাশি হওয়া সত্ত্বেও দুই দ্বীপ দেখতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেল সোল যেন ইট-কাঠ-পাথরের এক জঙ্গল। আর ল্যানজারোত অনেক শান্ত নিরিবিলি এক পরিবেশ। ল্যানজারোতে দেড় লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে ভবন নির্মাণে সবুজ অথবা নীলের প্রাধান্য থাকে।

নিউ ইয়র্কে চিত্রকর্ম ও স্থাপত্যবিদ্যায় শিক্ষিত ম্যানরিকে ১৯৬৬ সালে ল্যানজারোতে ফেরেন। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি ভবন নির্মাণ করেন, যা পরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের বিষয়ে পরিণত হয়। ল্যানজারোতে অতি উন্নয়ন ঠেকাতে তিনি স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করেন।

ল্যানজারোতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখার নিরলস চেষ্টা হিসেবে ১৯৯৩ সালে ইউনেসকো দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তকমায় ভূষিত করে। এর এক বছর পরেই ৭২ বছর বয়সে ম্যানরিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই ফিরে যেতে চেয়েছি। কারণ আমি জানতাম যে আমার দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্য স্বাভাবিক কিছু নয়।’

নিজ দ্বীপে ফিরেই তিনি স্থানীয় সরকারের প্রধান তার বন্ধু পেপিন রামিরেজের সঙ্গে দেখা করেন। তার সঙ্গে পরামর্শ ও বুদ্ধি করেই তারা সিদ্ধান্ত নেন ল্যানজারোতকে অতি উন্নয়ন থেকে রক্ষা করার। স্থানীয় ও চলতি রাজনীতির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপকে এগিয়ে নেওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। ম্যানরিকের ডাকে স্থানীয়রা যদি প্রকৃতি রক্ষায় না এগিয়ে আসতেন, তাহলে আজকের ল্যানজারোতের সৃষ্টি হতো না।

ম্যানরিকের শততম জন্মদিন উপলক্ষে গত মাসেই স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ থাইজে শহরের সিজার ম্যানরিকে ফাউন্ডেশনে শিল্পীর উল্লেখযোগ্য কিছু শিল্পকর্মের উন্মোচন করেন। এই ফাউন্ডেশনের ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল আগ্নেয়গিরির লাভার আকৃতি থেকে। ডিনামাইট ব্যবহার করে ম্যানরিকে লাভার বিশালাকার পাঁচটি বুদবুদের মধ্যে পথ সৃষ্টি করেন। ওই পথকেই বিভিন্ন রুমে রূপান্তরিত করেন তিনি।

ফাউন্ডেশনের বর্তমান নির্বাহী প্রধান ফার্নান্দ গোমেজ আগুইলেরা এএফপিকে বলেন, ‘শিল্প ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কই হলো ম্যানরিকের জিনগত দক্ষতা। একমাত্র বিলাসিতা প্রকৃতি থেকেই আসতে পারে।

অতি উন্নয়নবিরোধী কণ্ঠস্বর

রূপান্তর ডেস্ক

স্পেন শাসিত হলিডে আইল্যান্ড ল্যানজারোতের রাস্তার পাশে কিংবা বড় দালানে বিলবোর্ড লাগানো নিষেধ। এই দ্বীপেই এক শতক আগে জন্মেছিলেন শিল্পী সিজার ম্যানরিকে। তার জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর ওই উৎসবে যোগ দিয়ে বছরে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটকের সমাগত হয় দ্বীপটিতে।

পাশের দ্বীপটির নাম কোস্টা দেল সোল। পাশাপাশি হওয়া সত্ত্বেও দুই দ্বীপ দেখতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেল সোল যেন ইট-কাঠ-পাথরের এক জঙ্গল। আর ল্যানজারোত অনেক শান্ত নিরিবিলি এক পরিবেশ। ল্যানজারোতে দেড় লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে ভবন নির্মাণে সবুজ অথবা নীলের প্রাধান্য থাকে।

নিউ ইয়র্কে চিত্রকর্ম ও স্থাপত্যবিদ্যায় শিক্ষিত ম্যানরিকে ১৯৬৬ সালে ল্যানজারোতে ফেরেন। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি ভবন নির্মাণ করেন, যা পরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের বিষয়ে পরিণত হয়। ল্যানজারোতে অতি উন্নয়ন ঠেকাতে তিনি স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করেন।

ল্যানজারোতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখার নিরলস চেষ্টা হিসেবে ১৯৯৩ সালে ইউনেসকো দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তকমায় ভূষিত করে। এর এক বছর পরেই ৭২ বছর বয়সে ম্যানরিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই ফিরে যেতে চেয়েছি। কারণ আমি জানতাম যে আমার দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্য স্বাভাবিক কিছু নয়।

নিজ দ্বীপে ফিরেই তিনি স্থানীয় সরকারের প্রধান তার বন্ধু পেপিন রামিরেজের সঙ্গে দেখা করেন। তার সঙ্গে পরামর্শ ও বুদ্ধি করেই তারা সিদ্ধান্ত নেন ল্যানজারোতকে অতি উন্নয়ন থেকে রক্ষা করার। স্থানীয় ও চলতি রাজনীতির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপকে এগিয়ে নেওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। ম্যানরিকের ডাকে স্থানীয়রা যদি প্রকৃতি রক্ষায় না এগিয়ে আসতেন, তাহলে আজকের ল্যানজারোতের সৃষ্টি হতো না।

ম্যানরিকের শততম জন্মদিন উপলক্ষে গত মাসেই স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ থাইজে শহরের সিজার ম্যানরিকে ফাউন্ডেশনে শিল্পীর উল্লেখযোগ্য কিছু শিল্পকর্মের উন্মোচন করেন। এই ফাউন্ডেশনের ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল আগ্নেয়গিরির লাভার আকৃতি থেকে। ডিনামাইট ব্যবহার করে ম্যানরিকে লাভার বিশালাকার পাঁচটি বুদবুদের মধ্যে পথ সৃষ্টি করেন। ওই পথকেই বিভিন্ন রুমে রূপান্তরিত করেন তিনি।

ফাউন্ডেশনের বর্তমান নির্বাহী প্রধান ফার্নান্দ গোমেজ আগুইলেরা এএফপিকে বলেন, ‘শিল্প ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কই হলো ম্যানরিকের জিনগত দক্ষতা। একমাত্র বিলাসিতা প্রকৃতি থেকেই আসতে পারে।