বিরল চার ক্ষুদে প্রতিভা|180949|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
বিরল চার ক্ষুদে প্রতিভা
পরাগ মাঝি

বিরল চার ক্ষুদে প্রতিভা

শিক্ষা এবং পারদর্শিতার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। নেই কোনো বয়সেরও গ্ণডি। অনেকেই আছেন যারা বৃদ্ধ বয়সে পড়াশোনা, ডিগ্রি অর্জন শুরু করেন। আবার অনেকে অপরিণত বয়সেই এমন কীর্তি করে দেখান যা চমকে দেয় সবাইকে। ২০১৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে সিএনএন-এ প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই চার শিশুর কথা। লিখেছেন পরাগ মাঝি

৯ বছরে গ্র্যাজুয়েট লরেন্ট

যে বয়সে শিশুরা স্কুলে বানান কিংবা বাক্য গঠনের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে সেই বয়সে রীতিমতো স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ফেলছেন লরেন্ট সিমন্স। ৯ বছর বয়সী এই অবিশ্বাস্য প্রতিভার জন্ম বেলজিয়ামে। আর ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর পড়াশোনা করছেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৯ নম্বরে থাকা নেদারল্যান্ডসের ইনধোবেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে। তার মায়ের নাম লিডিয়া আর বাবার নাম আলেকজান্ডার সিমন্স।

গত ১৫ নভেম্বর লরেন্টকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিএনএন জানায়, ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো একটি কঠিন বিষয়ে পড়তে গিয়ে পরিণত বয়সের শিক্ষার্থীরাই যেখানে হিমশিম খায়, সেখানে বেশ সফলতার সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করতে চলেছেন লরেন্ট। এক কথায় লরেন্ট সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল- ‘অসাধারণ!’ তারা জানায়, আগামী ডিসেম্বরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন লরেন্ট।

লরেন্টের বাবা সিএনএনকে জানান, বর্তমানে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর পিএইচডি করার পরিকল্পনা করছে তার পুত্র। একই সময়ে সে মেডিসিনের ওপরেও পড়াশোনা করবে।

বিভিন্ন সময়ে দাদা-দাদু যখন লরেন্টের বাবা-মাকে তাদের পুত্রের সফলতার খবরটি দিতেন তখন তারা এটিকে অতিরঞ্জিত মনে করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা তাদের লরেন্টের প্রতিভা সম্পর্কে নিশ্চিত করে।

মা লিডিয়া সিমন্স বলেন, ‘শিক্ষকরা লরেন্টের মধ্যে বিশেষ কিছু দেখতে পেয়েছিলেন।’ বাবা আলেকজান্ডার বলেন, “লরেন্ট এত দ্রুততার সঙ্গে তার কোর্সগুলো সম্পন্ন করছিল যে, শিক্ষকরা তার একের পর এক পরীক্ষা নেন। জ্ঞান ধারণের এই বিশেষ ক্ষমতার জন্য লরেন্টকে ‘স্পঞ্জ’ বলে আখ্যায়িত করেন তারা।”

কীভাবে এত দ্রুত শেখার ক্ষমতা পেল লরেন্ট সে বিষয়ে তার বাবা-মায়ের কোনো ধারণা নেই। তবে তার মা লিডিয়া এ বিষয়ে কিছুটা কৌতুক করে বলেন, ‘লরেন্ট গর্ভে থাকা অবস্থায় আমি প্রচুর মাছ খেয়েছিলাম।’

ইনধোবেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি লরেন্টকে বিশেষ ছাত্র হিসেবে অনুমোদন করেছে, যে কি-না অন্য ছাত্রদের তুলনায় আরও দ্রুত তার ডিগ্রি সম্পন্ন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা পরিচালক সিওর্ড হালশফ বলেন, ‘এটা গতানুগাতিক নয়। বিশেষ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা শিডিউলে ক্লাস পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে যত দ্রুতগামী শিক্ষার্থী এসেছে লরেন্ট তাদের মধ্যে সেরা। সে শুধু অস্বাভাবিক মেধাবীই নয়, একই সঙ্গে যথেষ্ট সহানুভূতিশীলও। তার পছন্দের বিষয় ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সে মেডিসিনের ওপরেও পড়াশোনা করতে যাচ্ছে।’

লরেন্টের অস্বাভাবিক মেধা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বিশ্বজুড়ে। পৃথিবীর অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় লরেন্টকে পিএইচডি করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যদিও তার বাবা-মা জানিয়েছেন, লরেন্ট কোথায় পিএইচডি করবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বাবা-মায়ের ইচ্ছাÑ লরেন্ট নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেবে। তারা চাইছেন, লরেন্ট যেন তার দ্রুত শেখার ব্যাপারটিকে উপভোগ করে এবং যেন সবসময় চাপমুক্ত থাকে।

এদিকে, লরেন্ট সিএনএনকে জানান, তিনি তার কুকুর শামি’র সঙ্গে খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন। এছাড়া অন্যদের মতো মোবাইলে গেম খেলাও পছন্দ করেন। নয় বছর বয়সেই জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেছেন তিনি। অদূর ভবিষ্যতে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী লরেন্ট। আপাতত তিনি কোথায় পিএইচডি করবেন সে সম্পর্কে ভাবছেন। ডিসেম্বরে ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি শেষ করার পর এবং পিএইচডি করার আগের মধ্যবর্তী সময়টিতে কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটাবেন। এই সময়ে অবশ্য জাপানে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

১০ বছরের পিয়ানো বিস্ময়

২০১৫ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সেই সংগীত ভুবনে সাড়া ফেলে দেয় আলাসদির হাওয়েল। ওই বছর সিএনএনের সাংবাদিক নিল কারি যখন তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তখন সে তার বাবার কাছে বল ক্যাচ ধরতে শিখছিল। ছোট ছোট হাত দুটি ফসকে প্রায় সময়ই বলটি মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আনাড়ি এই হাত দুটোই ছিল পুরো পৃথিবীর বিস্ময়। এই হাতেই অসাধারণ পিয়ানো বাজিয়ে বাঘা বাঘা সংগীতজ্ঞদের দৃষ্টি কেড়েছে হাওয়েল। ভাবা হচ্ছে, হাওয়ালই হতে যাচ্ছে ফ্রেডরিখ কোপিনের মতো পরবর্তী পিয়ানো কিংবদন্তি।

মাত্র তিন বছর বয়সেই পিয়ানো বাজাতে শুরু করে হাওয়েল। আর মাত্র ছয় বছর বয়সে লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল ফেস্টিভাল হলে পিয়ানো বাজিয়ে সবাইকে চমকে দেয় সে। বর্তমান সময়ে পিয়ানো সেনসেশন ল্যাং ল্যাং বলেন, ‘ভবিষ্যতের তারকা হতে যাচ্ছে হাওয়েল।’

পিয়ানো বাজানো সম্পর্কে সিএনএনকে হাওয়েল বলেন, ‘এটা আমার শখ, আমি এটাকে দারুণ ভালোবাসি। আমি মনে করি এটা আমার জীবনের একটি অংশ।’

প্রতিদিন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পিয়ানো প্র্যাকটিস করে হাওয়েল। টুলের ওপর বসে যখন সে পিয়ানোর কি-বোর্ড ভালো করে ছুঁতেই পারত না তখন থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত বাজাচ্ছে সে। এমনই একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিয়ানো সেনসেশন ল্যাং ল্যাং। তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম একটি ছোট্ট শিশু পিয়ানো বাজাচ্ছে, তার চুলগুলোও কোপিনের মতো। সে এত ছোট যে, এটা অবিশ্বাস্য।’

হাওয়েলের ছোট্ট হাত দুটি সম্পর্কে তার বাবা রিচার্ড সিএনএনকে বলেছিলেন, ‘ক্যাচ ধরতে শেখালেও আমরা তাকে ক্রিকেটের উইকেট কিপার হতে বারণ করেছি। এই হাত দুটি নিয়ে তার আরও সচেতন হওয়া উচিত। এগুলো নিয়ে আমি প্রায়ই দুশ্চিন্তায় ভুগি।’

শিশু অবস্থায়ই তারকায় পরিণত হওয়া সম্পর্কে পিয়ানো বাদক ল্যাং ল্যাং বলেন, ‘ছোটবেলায়ই কোনো বিষয়ে যদি কেউ বিখ্যাত হয়ে যায়, তবে তার বাবা-মা এবং শিক্ষকরা ওই শিশুটির ওপর অন্য শিশুদের চেয়ে বাড়তি মনোযোগ দেন। এটা এক অর্থে ভালো। আবার ওই শিশুর জন্য এটা একটা মানসিক চাপও।’

ল্যাং ল্যাং হলেন পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব একজন পিয়ানো সুপারস্টার। তার রুদ্ধশ্বাস মেধা আর তারুণ্য তাকে পৃথিবীর গোটাকয়েক শিল্পীর মধ্যে একজনে পরিণত করেছে। তিনি মুহূর্তের মধ্যেই একটি কনসার্ট হলের পরিবেশ বদলে দিতে পারেন। ল্যাং ল্যাংয়ের তারকাখ্যাতি তার নিজের দেশ চীনের কয়েক মিলিয়ন শিশুকে হাতে পিয়ানো তুলে নিতে উৎসাহ জুগিয়েছে।

১০ বছরের গণিতজ্ঞ

২০১৫ সালে গণিত বিস্ময় এস্থার ওকাডের মতো ছোট্ট এক

কৃষ্ণাঙ্গ বালিকাকে নিয়ে প্রতিবেদন লিখেছিলেন সিএনএন-এর লরেন সাইড-মুরহাউস।

এস্থারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। সেই সময়টিতে এস্থার ফ্রোজেন রূপকথার চরিত্র এলসার মতো পোশাক পরতে ভালোবাসত, পুতুল নিয়ে খেলত, শপিং, দৌড়ঝাঁপ করে বেড়াত। কিন্তু ততদিনে ক্ষুদে এই বালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিও অর্জন করে ফেলেছিল।

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মধ্যাঞ্চলের একটি শিল্প শহর ওয়ালসালে বাস করত এস্থারের নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত পরিবার। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনা বিরল। মাত্র ১০ বছর বয়সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে গণিত বিষয়ে নাম লেখাতে সক্ষম হয় এস্থার। শুধু তাই নয়, সব ক্লাসেই সে-ই ছিল সেরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

এ বিষয়ে সিএনএনকে এস্থার বলে, ‘এটা ছিল দারুণ একটি ঘটনা। গণিত আমি ভালোবাসি। থিওরি, সংখ্যার জটিলতা এবং এ ধরনের গণিতের খেলা আমি ভালোবাসি।’

মুচকি হেসে আরও বলে, ‘আমি এই কোর্সটি দুই বছরে শেষ করতে চাই। তারপর আমি আমার পিএইচডি শুরু করব। আমি একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমি সংখ্যাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি মানুষকেও। মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যাংক একটি ভালো উপায়।’

সেই সময়টিতে অনেকেই এস্থারের বাবা-মাকে এত অল্প বয়সে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছিলেন। কিন্তু এস্থার তাদের সঙ্গে একমত ছিল না। বর্তমানে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে রয়েছে এস্থার।

মাত্র ৬ বছর বয়সেই ওল্ভারহ্যাম্পটনে কুয়ান্সডেল হাইস্কুলে গণিত বিষয়ে সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এস্থার। এই পরীক্ষায় সে সি-গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। এক বছর পর একই পরীক্ষায় সে তার প্রত্যাশিত এ-গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়।

জানা যায়, মাত্র তিন বছর বয়সে বাড়িতে মায়ের কাছে গণিত ও পড়াশোনা শুরু করেছিল এস্থার। তার কিছুদিনের মধ্যেই একটি প্রাইভেট স্কুলে তাকে ভর্তি করে দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করে সে।

এস্থারের মা ইফি জানান, মেয়েকে তিনি গণিতের সাধারণ নম্বরগুলো শেখাচ্ছিলেন, কিন্তু এস্থার ছিল আরও কয়েক মাইল এগিয়ে। মাত্র চার বছর বয়সেই সে বীজগণিতের নানা সমাধান করে ফেলতে সক্ষম হয়।

ইতিমধ্যেই ‘ইয়াম্মি ইয়াম্মি অ্যালজেব্রা’ নামে এস্থারের একটি বই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

গণিত বিষয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সেই সিএনএনকে সে বলেছিল, ‘যতদূর আপনি যোগ এবং বিয়োগ করতে পারবেন, তত দূর আপনি এটিকে মেলাতে সক্ষম হবেন।’ তার বাবা-মা চাইছেন এস্থারের সাফল্য যেন তাদের দেশ নাইজেরিয়ার মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। নাইজেরিয়ার যে অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে, সেই ব-দ্বীপ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই তারা ‘শেক্সপিয়ারস অ্যাকাডেমি’ নামে একটি ফাউন্ডেশন এবং একটি প্রাইমারি স্কুল গড়ে তুলেছে। এই স্কুল ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা দেবে। স্কুলটির ধারণক্ষমতা প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী। এই স্কুলের ৩০ শতাংশ আসনে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। বাকিরা আসে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে স্কলারশিপ পেয়ে।

পরিবারে গণিতের জ্ঞান শুধু এস্থারের নয়, তার ছোটভাই ইশাইয়া ২০১৫ সালের জুনে মাত্র ৬ বছর বয়সেই এ লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

৯ বছরের দাবা দানব

২০১৮ সালের ঘটনা। ভিসা জটিলতার কারণে ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি পাচ্ছিলেন না ভারতীয় বংশোদ্ভূত জিতেন্দর সিং ও পরিবার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে পরিবার নিয়ে ভারতে ফিরে আসার কথাও ছিল। এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় তার নয় বছর বয়সী পুত্রের জন্য। কারণ মাত্র নয় বছর বয়সেই জিতেন্দর সিংয়ের ছেলে শ্রেয়াসে’র দাবা খেলায় অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য পরিবারটিকে নতুন করে বসবাসের সুযোগ দেয় যুক্তরাজ্য। জিতেন্দর সিংকে দেওয়া হয় নতুন কাজের ভিসা।

‘শ্রেয়াস বিশ্বজুড়ে তার প্রজন্মের সেরা দাবাড়–দের একজন। তার দল একদিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারে’ এই বিবেচনায় শ্রেয়াসের পুরো পরিবারকে ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ব্রিটেনে এ ধরনের ভিসা দেওয়ার নজির খুব একটা নেই। জিতেন্দর সিং একটি আইটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন ব্রিটেনে। এর আগে ভিসার মেয়াদ না বাড়িয়ে তাকে ভারতে ফিরে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ‘তিনি বছরে ১২ হাজার পাউন্ড আয় করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যেটি তার ভিসার শর্তে ছিল।’

জানা গেছে, শ্রেয়াস দাবা’য় একদিন ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, এমন প্রত্যাশা তার ক্লাবের। অথচ ভিসা জটিলতায় তার মা-বাবাকে ব্রিটেনে বসবাসেরই অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু শ্রেয়াসের সমর্থকরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি সাজিদ জাভিদের হস্তক্ষেপে দাবায় শ্রেয়াসের নৈপুণ্যের কথা ভেবে ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ বিবেচনায় জিতেন্দর সিংকে নতুন কাজের ভিসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের হোম সেক্রেটারি সাজিদ জাভিদ বলেন, ‘শ্রেয়াসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবারটিকে ব্রিটেনে থাকার অনুমতি দিয়েছি। কারণ, শ্রেয়াস বিশ্বজুড়ে তার প্রজন্মের সেরা দাবাড়–দের একজন।’

সাউথ লন্ডনের বাটারসা চেস ক্লাবের একজন সদস্য শ্রেয়াস। ক্লাবটির সচিব লিয়েন ওয়াটসন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারে এ দলটি।’ ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৩৪ বছরের পুরনো বাটারসা চেস ক্লাব নিজেদের ওয়েবসাইটে শ্রেয়াসের পরিবারকে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়।

তিন বছর বয়স থেকে পরিবাওরর সঙ্গে ব্রিটেনে বসবাস করছিল শ্রেয়াস। নিজের ফেইসবুক পেজ থেকে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার খবরটি অনুসারীদের দিয়েছিলেন তিনি। এসময় যারা তার ব্রিটেনে বসবাসের পক্ষে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।