মানসিক দীনতার কথা বললেন মুমিনুল |181005|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মানসিক দীনতার কথা বললেন মুমিনুল

মানসিক দীনতার কথা বললেন মুমিনুল

মাঠে দলের অবস্থা যাচ্ছেতাই। তবে চারদিনের মধ্যে তিনটি সংবাদ সম্মেলন সামলানো বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক মুমিনুল হকের ‘পারফরম্যান্সে’ প্রতিদিন উন্নতি হচ্ছে। গতকাল ভারতের কাছে হোলকার স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টটা তিনদিনে হারার পর অভিষিক্ত অধিনায়ক প্রশ্নগুলো মোটামুটি সামলালেন। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগের বিকেলে বলে গিয়েছিলেন, টেস্টে উন্নতি করতে দলটায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনা ছাড়া উপায় নেই। একমত হয়ে গেলেন অধিনায়ক। তবে, দেশের বাইরে টেস্টে উন্নতি করতে চাইলে মানসিকতার উন্নতির বিকল্প নেই, জানিয়ে গেলেন।

‘আমার কাছে মনে হয়, যদি এমন কিছু নিয়ে কোচের সঙ্গে বসার সুযোগ হয়, সেটা টেস্টে উন্নতি করার জন্য ভালো কাজে দেবে।’ অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুল নিশ্চয় জানেন কোচ কী ভাবছেন। তার সঙ্গে শেয়ার করার কথা। তবে তার কথা শুনে মনে হলো, বিষয়টা নিয়ে এর মধ্যে নাড়াচাড়া শুরু করেছেন ডমিঙ্গো। মুমিনুল বলছিলেন, ‘যদি সেটা হয় (কাঠামোগত পরিবর্তন), সঙ্গে সঙ্গে কিছু হবে না, সময় লাগবে। সেভাবে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। আমার মনে হয় এটি একটি ইতিবাচক দিক।’

তবে ভারতের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যে টেস্টের মূলমন্ত্র ধৈর্যের কাছ দিয়েও যায়নি তাও স্বীকার করলেন মুমিনুল, ‘বোঝা উচিত ছিল এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আপনাকে খুব ধৈর্য ধরে ব্যাট করতে হবে। আপনারা খেলা দেখছেন, আমার কাছে মনে হয় ভারতীয় বোলাররা লুজ বল খুব কমই করে। ওদের বিপক্ষে ওপেনার বা টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বেশি প্যাশন নিয়ে খেলা উচিত।’

দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সাদমান ইসলাম ভয়ে ভয়ে খেলে দুই ইনিংসেই বিপদে ফেলে গেছেন দলকে। প্রত্যেক ইনিংসে ৬ করে তাদের রান। আউটের ধরন দৃষ্টিকটু, খেলার ধরনও। ৪ নম্বরে নেমে মোহাম্মদ মিঠুনও বিপদ বাড়িয়েছেন। একমাত্র মুশফিকুর রহীম ৪৩ ও ৬৪ রানের ইনিংস খেলে টেস্টের মানসিকতার কিছুটা দেখাতে পেরেছেন। প্রথম ইনিংসে ৩৭ করা মুমিনুলের ক্ষেত্রেও যা খাটে।

‘আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। জুটি করতে পারিনি। এটা খুব ভালো দলীয় পারফরম্যান্স নয়।’ মুমিনুল ইনিংস ও ১৩০ রানের হারের ব্যর্থতার পর বললেন, ‘আমরা যে বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলেছি সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। ওপেনাররা যদি ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে তাহলে মনে হয় পরের দিকে সহজ হয়। ঐ ১০-১৫ ওভার আমাদের একটু চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’

কিন্তু মুশফিককে যে চার নম্বরে না খেলিয়ে ৫ নম্বরে খেলানো হলো! কলকাতায় কি তাকে এক ধাপ ওপরের পজিশনে খেলানো ভালো নয়? মুমিনুলের তাই মনে হচ্ছে, ‘এখনো সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদি টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে তাহলে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটি একটি ইতিবাচক দিক যদি ওপরে প্রোমোট করা যায়।’

ভারতের বিপক্ষে এমন বাজের হারের কারণ হিসেবে মুমিনুলের মনে মানসিকভাবে অপ্রস্তুত থাকার কথাও বাজে। যেটাকে মানসিক দৈন্য বলে মনে হয়। বিশেষ করে দেশের বাইরে খেলায় সেটা আরও বেশি স্পষ্ট। ‘দেশের বাইরে টেস্ট খেলা সবসময় চ্যালেঞ্জিং আমার কাছে মনে হয়। আমরা দেশের বাইরে খুব একটা ভালো খেলতে পারি না। অনেক চাপ থাকে, সেভাবে সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। অনুশীলন করতে হবে।’

কিন্তু মানসিকভাবে তৈরি হওয়া বলতে এই দলকে কী বুঝাবেন তিনি? মুমিনুলের ব্যাখ্যা, ‘মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হলে সবসময় ভালো চিন্তা করতে হবে। টেস্ট ফরম্যাট আলাদা করে যদি কাঠামো তৈরি হয় তাহলে হয়তো সেটা বেশি কাজে দেবে। আপনি যখন একটা ফরম্যাট নিয়ে চিন্তা করবেন তখন সেখানেই থাকার চিন্তা করবেন। অটোম্যাটিক সেই বিষয়গুলো মাথায় আসবে। তবে কিছুটা সময় লাগবে।’  

দুই ম্যাচের সিরিজে ভারত ১-০ এর লিডে। আর যা হওয়ার তা হয়ে গেছে ভেবে মুমিনুল এখন সামনে তাকানোর পক্ষে, ‘আমরা এই ম্যাচ ভুলে পরেরটা নিয়ে ভাবতে চাই। আরেকটা সুযোগ পাব কলকাতায়। সেটা কাজে লাগাতে চাইব।’