শেষ হলো ফোক ফেস্ট মঞ্চ মাতাল ‘জুনুন’|181014|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
শেষ হলো ফোক ফেস্ট মঞ্চ মাতাল ‘জুনুন’
পাভেল রহমান

শেষ হলো ফোক ফেস্ট  মঞ্চ মাতাল ‘জুনুন’

পাকিস্তানের প্রখ্যাত সুফি রক ব্যান্ডদল ‘জুনুন’-এর পরিবেশনার মাধ্যমে পর্দা নামল এবারের ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টের। উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় এ দলটির গানের মধ্যদিয়ে গতকাল শনিবার রাত ১২টায় এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে মালেক কাওয়ালের মাইজভাণ্ডারী ও কাওয়ালি গানের সুরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হয় সমাপনী দিনের পরিবেশনা। পৌনে এক ঘণ্টা টানা সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন এ শিল্পী। শুরুতেই তিনি গেয়ে শোনান ‘হে রাসুলে খোদা কো ভুল গ্যায়ে’। চার দশকের বেশি সময় ধরে কাওয়ালি গেয়ে আসছেন মালেক কাওয়াল। তার গানে হাতেখড়ি গুরু মহীন কাওয়ালের কাছে। পরে ওস্তাদ টুনু কাওয়ালের কাছে তালিম নেন। কাওয়ালির পাশাপাশি তিনি মাইজভা-ারী গানেও পারদর্শী। এই শিল্পী একে একে গেয়ে শোনান. ‘গাওসুল আজম মাইজভাণ্ডারী’, ‘মাস্তে খ্যায়ালে ভা-ারী’, ‘বাবা মওলানা মওলানা মওলানা’ গানগুলো।

সমাপনী দিনে সন্ধ্যা থেকেই বাড়তে থাকে দর্শকের ভিড়। দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে দর্শক ছুটে আসে আর্মি স্টেডিয়ামে, শেকড়ের গানের টানে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় পুরো আর্মি স্টেডিয়ামে দর্শকের উপচেপড়া ভিড়। রাত সোয়া ৮টায় মঞ্চে আসেন রাশিয়ার ব্যান্ডদল সাত্তুমা। ২০০৩ সালে পথচলা শুরু করে রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় এই ব্যান্ডদল। ঢাকার মঞ্চে নানা ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট

 

বাজিয়ে শ্রোতাদের আবিষ্ট করেন সাত্তুমার সদস্যরা। গিটার, ভায়োলিনের সঙ্গে কণ্ঠের মায়াজালে ভাসিয়ে দেন সুরের সাগরে।

সাত্তুমার পরিবেশনার পর মঞ্চে রাত সাড়ে ৯টায় গান শুরু করেন বাংলাদেশের শিল্পী চন্দনা মজুমদার। কুষ্টিয়ার লালনকন্যা একে একে গেয়ে শোনান, ‘বেঁধেছ এমন ঘর’, ‘শিন্নি খাবার লোভ জাগিছে’, ‘তুমি জানো না রে প্রিয়/তুমি মোর জীবনের সাধনা’, ‘সোনারও পালঙ্কের ঘরে’ প্রভৃতি গান।

শেষ পরিবেশনায় অংশ নেন পাকিস্তানের জুনুন। সুফি ঘরানার গান পরিবেশন করে দুই যুগের বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের আবিষ্ট করে রেখেছে এ ব্যান্ড দলটি। ১৯৯৭ সালে নিজেদের চতুর্থ অ্যালবাম ‘আজাদি’ দিয়ে উপমহাদেশজুড়ে ঝড় তোলে। ৩০ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয় অ্যালবামটির। এই শিল্পী ‘দামা দাম মাস্ত ক্যালেন্দার’সহ বিভিন্ন গানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় সংগীত পরিবেশন করেন।

সান ফাউন্ডেশন ও সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী লোকসংগীতের এই আসর গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শিল্পীরা শোনান শেকড়ের গান। লোকসংগীতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে ঢাকার মঞ্চে সুরের ঝড় তোলেন ছয় দেশের দুই শতাধিক শিল্পী। প্রতিবারের মতো এবারও দর্শক বিনামূল্যে শুধু অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করে। সরাসরি অনুষ্ঠানটির টিভি সম্প্রচার করে মাছরাঙা টেলিভিশন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানটি লাইভ শোনা যায় রেডিও দিনরাত-এ।