আইসিসির তদন্তের অনুমতি মিয়ানমারের প্রত্যাখ্যান|181022|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
রোহিঙ্গা ‘গণহত্যা’
আইসিসির তদন্তের অনুমতি মিয়ানমারের প্রত্যাখ্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইসিসির তদন্তের অনুমতি মিয়ানমারের প্রত্যাখ্যান

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কি না, তা তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার দেশটির সরকারের মুখপাত্র জ্য হেতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্তের অনুমোদন আন্তর্জাতিক

আইনকে সমর্থন করে না’। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট রাখাইনের মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহী হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। এসব ঘটনায় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের নামে মামলা হয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায়। রোহিঙ্গা এবং লাতিন আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো আর্জেন্টিনায় ‘সর্বজনীন এখতিয়ার’ নীতির অধীনে মামলাটি দায়ের করে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায় আইসিসি।

তবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মিয়ানমার। এতে জ্য হেতে বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হচ্ছে না। নিপীড়ন অভিযোগের তদন্ত করবে ইয়াঙ্গুনের নিজস্ব কমিটি, প্রয়োজনে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে তারা।’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নকে সবসময় বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে। সরকারের দাবি, সন্ত্রাসীদের দমন করতে তারা ওই অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়া তারা বারবারই আইসিসির কর্র্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। শুক্রবারও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছে দেশটি।

সংবাদ সম্মেলনে জ্য আরও বলেন, জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষর করা মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর (আইসিসির তদন্ত অনুমোদন) জবাব দেবে। আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় মিয়ানমার। তা সত্ত্বেও গত বছর ওই আদালত রায় দেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে বিচার করার এখতিয়ার তাদের আছে। কারণ, এসব শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এই দেশটি তাদের সদস্য।

এদিকে গত ১১ নভেম্বর রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নিধনযজ্ঞ পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়। ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। আইসিজে মামলাটি গ্রহণ করলে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে বাধ্য হবে মিয়ানমার।