রাবিতে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল ছাত্রলীগ |181028|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
রাবিতে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল ছাত্রলীগ
রাবি প্রতিনিধি

রাবিতে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল ছাত্রলীগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবশেষে সেটি স্থগিত করা হয়।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম সোহরাব মিয়া। তিনি ফাইন্যান্স বিভাগের

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক ছাত্র। আর মারধরকারীরা হলেন, আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবীর নাহিদ। তারা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে সোহরাবকে হলের তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবীর নাহিদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সোহরাবকে বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন। একপর্যায়ে সোহরাবকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আসিফ ও নাহিদ। এতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন সোহরাব। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহরাবকে উদ্ধার করে তার সহপাঠীরা। প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোহরাবের সহপাঠী তনয় দেশ রূপান্তরকে জানান, মারধরে সোহরাবের বাম হাতের কনুইয়ের ওপর ও নিচে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। চিকিৎসক জানিয়েছে মাথার তিন জায়গায় মোট ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার পায়েও গুরুতর জখম হয়েছে। এক্সরে রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে পা ভেঙেছে কি না।

সোহরাবকে মারধরের ঘটনায় শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অভিযুক্তদের বহিষ্কারসহ তিন দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। 

ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক কামরুজ্জামান বাচ্চু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ (শনিবার) রাতের মধ্যেই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আহত সোহরাবের ব্যয়ভার প্রশাসন বহন করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে সহকারী প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে তাদের বলা হয়েছে।’ 

রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাক এবং হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।