হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী|181029|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রেমের বিয়ের পাঁচ মাস না যেতেই লাশ হতে হলো এক গৃহবধূকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পর গত শুক্রবার বিকালে জান্নাত আক্তার (১৮) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ চান্দিনা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যান স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (২০)। এর আগে দুপুরে জান্নাতকে ঘরের সিলিংপডর সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বামী সাখাওয়াত।

জান্নাত দেবীদ্বারের বরকামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. কবির হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী সাখাওয়াত একই গ্রামের আবদুল ওহাব মিয়ার ছেলে।

জান্নাতের মৃত্যুর ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ও তার বাবা-মাকে আসামি করে গতকাল শনিবার সকালে একটি মামলা করেছেন তার বড় মামা মো. শাহ আলম। এরপর এদিন সকাল ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য জান্নাতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি দল।

মারা যাওয়া জান্নাতের মা হাসিয়া বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, জান্নাত ও সাখাওয়াত পাঁচ মাস আগে প্রেম করে উভয় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লা জজকোর্টে গিয়ে বিয়ে করেন। পরে সামাজিকভাবে দেন-দরবারের পর উভয় পরিবার দুজনের বিয়ে মেনে নিলে জান্নাতকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর সাখাওয়াতকে সৌদি আরব পাঠাতে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তার বাবা-মা। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে এত টাকা যৌতুক দিতে পারবেন না বলে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানিয়ে দেন হাসিয়া বেগম। আর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশের পর থেকে জান্নাতের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী সাখাওয়াত ও তার বাবা-মা। এ নিয়ে জান্নাত ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই কলহ দেখা দিতে থাকে। পরে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে জান্নাতকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

হাসিয়া বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করে ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তারপর এটাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জান্নাতের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবীদ্বার থানার এসআই মো. রবিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জান্নাতের মৃতদেহ শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চান্দিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেবীদ্বার থানায় আনার পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।’