৮০ ভাগ সড়কে খানাখন্দ! |181192|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
৮০ ভাগ সড়কে খানাখন্দ!
সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল

৮০ ভাগ সড়কে খানাখন্দ!

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বরিশাল মহানগরের অধিকাংশ সড়ক। বিটুমিন উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দাবি করেছে, নগরীর ৮০ ভাগ সড়ক এখন চলাচলে অনুপযোগী। এদিন সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কাশিপুরের স্থানীয়রা।

বাসদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের প্রায় ৮০ ভাগ সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী। এতে প্রতিনিয়ত বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। থ্রিডি জেব্রাক্রসিং নিয়ে উন্মাদনার কিছুদিন পরই শহরে প্রায় সব রাস্তা বাস্তবের

থ্রিডিতে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর আমতলা মোড় থেকে সদর রোড, হাসপাতাল রোড হয়ে নথুল্লাবাদ সড়কটি বাদ দিলে নগরের অন্যসব সড়ক খানাখন্দে ভরা। যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সড়কগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বেহাল সড়কগুলোর মধ্যে বগুড়া রোড, বঙ্গবন্ধু উদ্যানের চারপাশের সড়ক, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্মুখ সড়ক, আলেকান্দা-বটতলা সড়ক, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন, নবগ্রাম রোড, মল্লিক রোড, কালিবাড়ী রোড, স্ব-রোড, ভাটিখানা সড়ক, ধানগবেষণা রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, গোরস্তান রোড, কলেজ রোড, বৈদ্যপাড়া সড়ক, কাজীপাড়া সড়ক, স্টেডিয়াম সড়ক, কাউনিয়া প্রধান সড়ক, কাশিপুর বাজার থেকে গণপাড়া সড়ক, ব্রাঞ্চ রোড, ভিআইপি সড়ক, পলাশপুর-রসুলপুর সড়কের বেশিরভাগ বিটুমিন উঠে গেছে।

কাশিপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত চার বছর ধরে এ সড়কের বেহাল দশা। এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। অধিকাংশ স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়কে অস্তিত্ব বোঝাই যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি।’

বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘থ্রিডি জেব্রাক্রসিং নিয়ে পেপার-পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে যত নিউজ এসেছে তার সিকিভাগও রাস্তার এ ভয়াবহ সংকট নিয়ে আলোকপাত করা হয়নি। বিভিন্ন সড়কে এক-দুই ফুট গর্তে পানি জমে মাছ চাষের মতো পরিস্থিতি। লোক দেখানো দুয়েকটা রাস্তায় সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা চলছে একেবারেই মন্থরগতিতে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান বলেন, ‘নগরের বেশকিছু সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। মেয়রের নির্দেশে ১৭টি সড়ক চিহ্নিত করে সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বলেছি। একটি সংস্কারের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। আশা করছি ১৫-২০ দিনের মধ্যে এ সমস্যা থাকবে না।’

সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যে দুটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় (ফণি ও বুলবুল) মোকাবিলা করতে হয়েছে। এতে মহানগরের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ শুরু হয়ে গেছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছি।’