আমিরাতের ব্যবসায়ীদের আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর |181231|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
আমিরাতের ব্যবসায়ীদের আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত
রূপান্তর ডেস্ক

আমিরাতের ব্যবসায়ীদের আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উদ্যোক্তাদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আবুধাবির হোটেল সাংরি-লাতে তার সম্মানে দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা ও নৈশভোজে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সফরকালীন এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। এর আগে সকালে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে (ডিডব্লিউসি) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এয়ার শো ‘দুবাই এয়ার শো-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এয়ার শো’র ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ করেন আবুধাবির যুবরাজ ও ইউএইর সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ

আল-নাহিয়ান। তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সব থেকে সহনীয় বিনিয়োগ নীতি বিদ্যমান উল্লেখ করে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা তৈরি পোশাক শিল্প, ভবন অবকাঠামো নির্মাণ, নির্মাণ শিল্প, যোগাযোগ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন, হাল্কা প্রকৌশল, শিল্প পার্ক এবং পণ্য সরবারাহের কেন্দ্র হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এবং হাইটেক পার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস সুবিধা এবং শতাধিক অবকাঠামোসহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শীর্ষ উদ্যোক্তাগণ এবং ইউএইর স্বনামধন্য ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং তাদের সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুবাই এয়ার শোতে প্রধানমন্ত্রী : গতকাল স্থানীয় সময় সকালে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে জমকালো আয়োজনে ১৬তম দুবাই এয়ার শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর দুবাইয়ের আকাশে দ্বিবার্ষিক এই এয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছে ১৬০ দেশের প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোম্পানি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই এয়ার শোতে যোগ দিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে মনোজ্ঞ উড়োজাহাজের মহড়া উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ১৮ নভেম্বর আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণে নির্বাচন কমিশনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।

এ বছর সারা বিশ্বের ৮৭ হাজারের বেশি ট্রেড ভিজিটর ও ১ হাজার ৩০০-এর বেশি এক্সিবিটর দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ বিমানবন্দর দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে এ উপলক্ষে সমবেত হয়েছেন। এ ছাড়া এতে ১৬০টি দেশ থেকে ১৬৫টি বিমান অংশ নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ার শো-২০১৯ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে আমিরাত পৌঁছান। সফর শেষে ১৯ নভেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি।

আমিরাতে শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত : পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে দুবাই এয়ার শো-২০১৯-এর ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ ইঙ্গিত দেন।

যুবরাজ নাহিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার পরবর্তী আমিরাত সফরকালে আপনাকে এ প্রশ্নটি আর করতে হবে না।’

তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আগের চেয়ে বেশি ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।

সাক্ষাৎ শেষ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, যুবরাজ বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানিরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উদ্বৃত্ত চাল উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের চাল উৎপাদন করছে। আমরা বিভিন্ন দেশে চাল রপ্তানি করছি।’

যুবরাজ বলেন, তারা বাংলাদেশ থেকে সেরা মানের চাল আমদানি করতে চায়। তার দেশ তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চাল দেখার জন্য বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে। বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।