কাশ্মীরে বন্দী নেতাদের পুলিশের মারধর|181283|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৫৯
কাশ্মীরে বন্দী নেতাদের পুলিশের মারধর
অনলাইন ডেস্ক

কাশ্মীরে বন্দী নেতাদের পুলিশের মারধর

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মারধর করেছে পুলিশ। অঞ্চলটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও প্রাক্তন বিধায়ক সাজ্জাদ লোনের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এই অভিযোগ করা হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, তুষারপাতে বিপর্যস্ত কাশ্মীরে ঠান্ডার জেরে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অস্থায়ী বন্দিশালা থেকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে রাজনৈতিক বন্দীদের।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার শ্রীনগরের চশমে শাহি থেকে মেহবুবা মুফতিকে মাওলানা আজাদ রোডের সরকারি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

রবিবার ডাল লেকের তীরের সেন্টার হোটেলে বন্দী ৩৪ জন কাশ্মীরি নেতাকে স্থানান্তরিত করা হয় শ্রীনগরের এমএলএ হোস্টেলে। এই সময়ে সাজ্জাদ লোন, ওয়াহিদ প্যারা ও শাহ ফয়সালকে মারধর করা হয়।

চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় ভারতের বিজেপি সরকার। সে সময় অঞ্চলটির সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিসহ প্রথম সারির প্রায় সব কাশ্মীরি নেতাকে আটক করা হয়।

ফারুক আবদুল্লাহকে শ্রীনগরে তার বাড়িতেই রাখা হয়েছে। বাকি নেতাদের রাখা হয় বিভিন্ন সরকারি হোটেল-বাংলো-প্রটোকল ভবনে। সেগুলোকে সাব-জেলে রূপান্তরিত করে প্রশাসন।

বছরের এই সময় মাত্রাতিরিক্ত শীত পড়ে ডাল লেকের তীরে। ফলে কিছুদিন ধরেই সেন্টার হোটেলে বন্দী নেতাদের সরানোর কথা ভাবছিল প্রশাসন। কিন্তু কয়েক দিনের প্রবল তুষারপাতে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়।

শনিবার চশমে শাহি থেকে মেহবুবাকে সরানো হয় মাওলানা আজাদ রোডের সরকারি বাড়িতে। এক সময়ে ওই বাড়িতেই থাকতেন মেহবুবার বাবা প্রয়াত মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ।

মেহবুবার মেয়ে ইলতিজা বলেন, ‘মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলাম। যে কটেজে মাকে রাখা হয়েছিল তার জানালা ভাঙা ছিল। উপযুক্ত হিটারও নেই। কিন্তু আমার কথা কেউ শুনছিলেন না।’   

রবিবার সেন্টার হোটেল থেকে ৩৪ জন বন্দীকে সরানো হয়েছে মাওলানা আজাদ রোডেরই এমএলএ হোস্টেলে। সরকারি সূত্রের খবর, বন্দী নেতা ও তাদের পাহারায় নিযুক্ত রক্ষীরা ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। এই জন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়।

এদিকে মেহবুবার টুইটার হ্যান্ডল থেকে অভিযোগ করা হয়, এমএলএ হোস্টেলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে সাজ্জাদ লোন, ওয়াহিদ প্যারা ও শাহ ফয়সালকে মারধর করা হয়েছে। মেহবুবার টুইটার হ্যান্ডলটি এখন ব্যবহার করেন ইলতিজা।

তিনি লেখেন, ‘পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদকে এক সময়ে ভাই বলতেন নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ওয়াহিদের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন রাজনাথ সিংহ। শাহ ফয়সালকে কাশ্মীরের রোল মডেল বলা হয়েছিল। তাদেরই এমন অবস্থা হলে অন্যদের কী হাল হতে পারে বুঝে দেখুন।’

সাজ্জাদের দল জম্মু-কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স থেকেও দাবি করা হয়, দেহ তল্লাশির নামে সাজ্জাদকে মারধর করা হয়েছে। তবে তাদের এই দাবি নাকচ করেছে দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।