সাপখেকো শঙ্খিনী|181294|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫০
সাপখেকো শঙ্খিনী
রিপন দে, মৌলভীবাজার

সাপখেকো শঙ্খিনী

শঙ্খিনী এমনি একটি সাপ যার ভয়ে অন্য সাপ পালিয়ে যায়। ইংরেজিতে ডাকা হয় Banded Krait, বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus fasciatus। নিউরো টক্সিন বিষ সংবলিত শঙ্খিনী সাপকে এলাকা ভেদে আলাদা আলাদা নামে ডাকা হয়। যেমন; শাখামুটি, সানি সাপ, দুই মাথা সাপ প্রভৃতি।

বাংলাদেশের পরিবেশ উপযোগী অন্যতম সুন্দর সাপ শঙ্খিনী। যারা সাপ সম্পর্কে ধারণা রাখেন শান্ত স্বভাবের কারণে তাদের কাছে এটি বেশ প্রিয়। অতি সুন্দর ও চমৎকার রঙে সজ্জিত এই সাপের মাথা আকারে বেশ বড়, সারা শরীরজুড়ে কালো ও হলুদ ডোরা। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ৬ থেকে ৭ ফুট।  

খুব বিষধর হলেও দেশের ইতিহাসে শঙ্খিনী সাপের দংশনে মানুষ মারা যাওয়ার ইতিহাস নেই।

সারা দেশেই এদের দেখা যায়। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এদের অবস্থান বেশি। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, লাওস, ম্যাকাউ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইয়ে এদের দেখা যায়।

গ্রাম এলাকায় এদের দু’মুখো সাপও বলে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ ধারণার কারণ হলো সাপের লেজের অংশটি ভোঁতা হওয়ায় অনেকে মুখ মনে করেন।

যে এলাকায় শঙ্খিনী থাকে অন্যান্য সাপ সাধারণত সেখানে থাকে না, কারণ অন্য প্রজাতির সাপ এদের প্রিয় খাদ্য। নিশাচর সরীসৃপটি কেউটে, গোখরো, কালাচসহ অন্যান্য বিষাক্ত সাপকে খেয়ে ফেলে। তাই এদের ভয়ে অন্য সাপ পালিয়ে যায়।

শঙ্খিনী বর্ষায় ডিম দেয় ও বাচ্চা ফুটায়। স্ত্রী সাপ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৪-১৪টি ডিম দেয় এবং ডিমের পরিস্ফুটনকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। ডিমের পরিস্ফুটনের জন্য ৬১ দিন সময় লাগে।

বাণিজ্যিকভাবেও শঙ্খিনী মূল্যবান। এই সাপের বিষ খুব দামি এবং এর চামড়ার বাজার দর অন্য সাপ থেকে খুব চড়া।

শঙ্খিনী নিশাচর। ইঁদুরের গর্ত, ইটের স্তূপ কিংবা উইয়ের ঢিবিতে থাকতে পছন্দ করে। আইইউসিএন এই সাপকে বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ স্নেক অ্যান্টি ভেনম প্রজেক্টের সহকারী গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, “প্রতিটি সাপের জীবন হুমকির মুখে, এখনই প্রজননের ব্যবস্থা না করলে এরা বিপন্ন হয়ে যাবে। প্রজননের জন্য খামার হতে পারে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। এতে সাপ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দামি এই সাপের মাধ্যমে অর্জন করা যাবে বৈদেশিক মুদ্রা।”

সাপ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন কামরুজ্জামান বাবু। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে আমরা সেভাবে সচেতন করতে পারিনি, তাই তাদের কাছে সাপ মারা যেন উৎসবের কাজ। তবে সাধারণ মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন করতে পারলে এখনো এই সাপকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে। তা না হলে অচিরেই এরা হারিয়ে যাবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, “অন্যান্য সাপের মতো এই সাপও কমছে মূলত দুটি কারণে। মানুষ নির্বিচারে সাপ হত্যা করছে। অন্য কারণ হচ্ছে মানুষের কারণে সাপের বাসস্থান বিপন্ন হচ্ছে দ্রুত।”

আরও জানান, যেহেতু অন্য সাপকে খেয়ে ফেলে তাই প্রাকৃতিকভাবেই শঙ্খিনী পরিবেশে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রাখে।